“আমি একশো শতাংশ নির্দোষ!” ইডি সমনের পরেই বিস্ফোরক দাবি কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের

বিগত বেশ কিছুদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক জলবায়ু ও আইনি পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর মোড় দেখা যাচ্ছে। ঠিক এই আবহেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED)-র তলব পাওয়ার পর নিজের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন কামারহাটির জনপ্রিয় ও বিতর্কিত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মদন মিত্র। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কড়া নোটিশ ও জেরার মুখোমুখি হওয়ার জল্পনার মাঝেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেছেন যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো রকম দুর্নীতির সঙ্গে বিন্দুমাত্র যুক্ত নন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে নতুন করে গুঞ্জন।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর নাম কোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে রাজনৈতিক চক্রান্ত থাকতে পারে, তবে তিনি একশো শতাংশ স্বচ্ছ ও নির্দোষ। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই তলব প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা, তদন্তকারী দল ডাকলে আইনগতভাবে তিনি সবসময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, কিন্তু তাঁর সততা ও স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা চলতেই পারে না। তিনি বারংবার নিজের রাজনৈতিক দীর্ঘ পথ এবং জনগণের প্রতি তাঁর একনিষ্ঠ দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানান যে আইন এবং আদালতের প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
এর পাশাপাশি এদিন মদন মিত্রের মুখে শোনা যায় দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য। ইদানীং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মুখে ‘ভালো তৃণমূল’ বনাম ‘খারাপ তৃণমূল’ তত্ত্বের যে নানা কাটাছেঁড়া চলছে, তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে মদন মিত্র দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন যে তৃণমূল কংগ্রেসে ভালো বা খারাপ বলে কোনো আলাদা বিভাজন নেই। তাঁর মতে, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস একটি সুসংহত রাজনৈতিক দল এবং দল হিসেবে তৃণমূল একটাই। দলের মধ্যে কোনো রকমের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা মতপার্থক্যকে তিনি বিশেষ পাত্তা দিতে নারাজ। তৃণমূলের সর্বময় নেতৃত্ব ও সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেই তিনি একসুরে দল পরিচালনার পক্ষে সওয়াল করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচন কিংবা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির তৎপরতার মাঝে মদন মিত্রের এই ধরনের ঝাঁঝালো ও আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আইনি ও রাজনৈতিক উভয় মোর্চাতেই মদন মিত্র যে আত্মপক্ষ সমর্থনে কোনো ছাড় দিতে নারাজ, তা তাঁর এদিনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফ থেকে তাঁকে ঠিক কী ধরনের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় এবং কামারহাটির এই প্রভাবশালী বিধায়কের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ও সচেতন নাগরিক সমাজ।