সেবাশ্রয় শিবিরে কোটি কোটি টাকার সরকারি ওষুধের নয়ছয়! ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ হওয়া কোটি কোটি টাকার সরকারি ওষুধ বেআইনিভাবে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচিতে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠল। প্রাথমিক তদন্তে এমনই এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট হাতে এসেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের। সরকারি কোনো অনুমোদন বা প্রশাসনিক কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সরকারি ওষুধ সেবাশ্রয় শিবিরে ব্যবহার করা হলো, তা দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। এই বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ব্যবহারের প্রকৃত আর্থিক পরিমাণ কত, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বিশ্লেষণের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। পাশাপাশি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ঠিক কোন আধিকারিক এই বেআইনি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন, তাঁদের চিহ্নিতকরণের কাজও ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। অভিযুক্ত সেই সমস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার।

এদিকে এই সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবির এবং ডায়মন্ড হারবারের তৎকালীন কোভিড পরীক্ষা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা স্থানীয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) ডায়মন্ড হারবারে করোনাকালে হওয়া কোভিড পরীক্ষার নামে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, সাংসদ অভিষেকের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানেই ডায়মন্ড হারবারে ওই বিতর্কিত কোভিড পরীক্ষার কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছিল। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই বিজেপি নেতা। পুলিশের কাছে তাঁর স্পষ্ট আর্জি, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে অবিলম্বে এফআইআর রুজু করা হোক।

এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে ডায়মন্ড হারবারে আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্যশিবির ঘিরেও বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল এবং সেই সংক্রান্ত বিষয়েও থানায় অভিযোগ দায়ের ও এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরও এই ঘটনার নিজস্ব অনুসন্ধান শুরু করেছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খাস ডায়মন্ড হারবারে করোনার মেগা পরীক্ষাশিবির ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। পুলিশের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে বিজেপি নেতা উল্লেখ করেছেন যে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ডায়মন্ড হারবারে যে ‘মেগা কোভিড-১৯ টেস্টিং ড্রাইভ’-এর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার পেছনে বহু পদ্ধতিগত দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম রয়েছে। ওই কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা এবং সরকারি সম্পত্তির যথেচ্ছ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত পেয়েছেন তিনি। একের পর এক অভিযোগে বিদ্ধ হয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র সংঘাতের সৃষ্টি করেছে।