জুনিয়র থেকে সিনিয়র—রক্তাক্ত পাকিস্তান! হিংসার আগুনে পুড়ছে পিওকে থেকে খাইবার পখতুনখাওয়া

চলতি বছরের জুন এবং জুলাই মাসে পাকিস্তান জুড়ে হিংসার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা কাশ্মীর বা PoK-র রাওয়ালকোট এলাকায় পাকিস্তানি সেনা, পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর বেপরোয়া দমনপীড়ন ও রক্তক্ষয়ী অভিযানে বহু সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত মাত্র ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানেই সেখানে ৩৫ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাস জুড়ে চলা বিভিন্ন সংঘর্ষে মোট দেড় শতাধিক সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অন্যদিকে, খাইবার পখতুনখাওয়া, বেলুচিস্তান এবং পাঞ্জাব প্রদেশেও লাগাতার সন্ত্রাসী হামলা, অতর্কিত আক্রমণ এবং পণবন্দি করার মতো ঘটনায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীকে চরম ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
কী বলছে পরিসংখ্যান?
উপলব্ধ তথ্য ও পরিসংখ্যানে প্রকাশ, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে সমগ্র পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ সংক্রান্ত প্রায় ৭৫৫টিরও বেশি হিংসাত্মক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়সীমার মধ্যে দেশের ভেতরে চলা সংঘর্ষে ৬০০-র বেশি সাধারণ নাগরিক এবং ৮২০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১,৬০০ থেকে ১,৭০০ জন জওয়ানের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
PoK-এর নৃশংসতা নিয়ে ভারতের স্পষ্ট বার্তা
পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে চলা এই বর্বরোচিত দমনপীড়ন ও বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সরকারি মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সর্বজনবিদিত। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিটি ইঞ্চি— যার মধ্যে পাকিস্তানের বেআইনি ও জোরপূর্বক দখলকৃত অংশগুলিও সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত— ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ। তিনি আরও তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন যে, PoK-তে বর্তমান সময়ে যে ব্যাপক গণবিক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে, তা মূলত পাকিস্তানের বহু দশকের দীর্ঘ অর্থনৈতিক শোষণ, সাধারণ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া এবং চরম প্রশাসনিক দমনেরই এক অনিবার্য ও সরাসরি পরিণতি।