“টুলু মণ্ডলের সিন্ডিকেট রাজ!”-মিনারের বাড়ি থেকে বিপুল টাকা উদ্ধারের নেপথ্যে আসল রহস্য কী?

বীরভূমের মহম্মদবাজারে সদ্য ধরা পড়া একটি ডাকাত দলের সূত্র ধরে খোদ পুলিশের হাতে এল চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, ওই ধৃতদের জেরা করার পরেই পাথর ব্যবসায়ী নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে লুকিয়ে রাখা প্রায় ২৮ কোটি টাকার নগদ ও বিপুল সোনার হদিস পেয়েছে পুলিশ। সবমিলিয়ে উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা ও সোনার মোট বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ঠিক কীভাবে ফাঁস হল রহস্য?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার মহম্মদবাজার থানার পুলিশ সাত জনের একটি সন্দেহভাজন দলকে গ্রেপ্তার করেছিল। মহম্মদবাজারের একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে তাদের পাকড়াও করা হয়। বুধবার তাদের সিউড়ি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

আদালতের আইনজীবী সুব্রত দে জানান যে ধৃতদের বিরুদ্ধে এর আগে সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকায় তদন্তকারীদের একাংশের মনে প্রশ্ন জেগেছে— তাঁরা আদতে কোনো ডাকাত দলের সদস্য ছিলেন কি না? তদন্তকারীদের ওই অংশের অনুমান, তাঁরা হয়তো আসল ডাকাত নন; বরং ডাকাত সেজে ওই বাড়িতে এসে মিনার মণ্ডলের নির্দেশ মতো বাড়িতে থাকা কালো টাকা বা সোনা অন্য কোথাও পাচারের ছক কষেছিলেন। কিন্তু মাঝপথে তারা পুলিশের জালে ধরা পড়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়।

পুলিশ সুপারের বয়ান ও ৫০ কোটির সাম্রাজ্য

এই বিশাল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ ভুন্দেশ জানান, “জেলা পুলিশের একটি টিম সুনির্দিষ্ট তথ্য পায় যে মহম্মদবাজারের একটি জায়গায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং সোনা মজুত করা আছে। টুলু মণ্ডল নামের এক সিন্ডিকেট প্রধানের সহযোগীর বাড়িতে ওই সম্পত্তি রয়েছে। এর পরই তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। মিনার মণ্ডল পুলিশকে জানিয়েছেন যে তিনি টুলু মণ্ডলের সঙ্গে সিন্ডিকেট চালাতেন এবং সেই সিন্ডিকেটের টাকাই সেখানে মজুত ছিল।”

বৃহস্পতিবার সকালেই মিনার মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডেউচায় মিনার মণ্ডলের বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুরো এলাকা কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে সমস্ত উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনা মহম্মদবাজার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) গাইকোয়াড নীলেশ শ্রীকান্ত জানিয়েছেন যে বাড়িটি বর্তমানে সিল করে দেওয়া হয়েছে। পাথরের ব্যবসার আড়ালে এই বিপুল অবৈধ আর্থিক সাম্রাজ্য কীভাবে গড়ে উঠল, এখন সেই নিয়েই গভীর তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।