প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও উধাও হওয়ার ঘটনায় বড় পদক্ষেপ! মেটার কড়া জবাব ও নিরাপত্তার আশ্বাস

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ডিলিট হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ার পর অবশেষে কেন্দ্র সরকারকে লিখিত আকারে জবাবদিহি এবং ক্ষমা প্রার্থনা করল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা মেটা (Meta)। যদিও এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর পরই মেটা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক ভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছিল, কিন্তু তাদের সেই মৌখিক ব্যাখ্যায় কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট না হওয়ায় সংস্থার শীর্ষ স্থানীয় আধিকারিকদের তলব করা হয়েছিল। এবার সমস্ত বিতর্কের অবসান ঘটাতে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের ভুল আর কখনও ঘটবে না বলে দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছে মেটা। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রায় ৩ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিওতে তিনি মূলত সর্বভারতীয় নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনরত দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন। ভিডিওটি পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গেই তা হু হু করে ভাইরাল হয়ে যায় এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইনস্টাগ্রামেই সেটি ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি ভিউজ় কুড়িয়ে নেয়। এর ফলে তাঁর পেজে হু হু করে বাড়ে ফলোয়ার্সের সংখ্যাও। কিন্তু হঠাত্ গত মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসে যে, মোদীর সেই বহুলচর্চিত ভিডিওটি মেটার প্ল্যাটফর্ম থেকে হঠাৎ ডিলিট হয়ে গিয়েছে। সেই সময় মেটার তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির (Technical Glitch) কারণেই ভুলবশত এই ঘটনা ঘটেছে এবং সাময়িকভাবে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল।
মেটার নতুন লিখিত জবাব ও বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা:
সূত্রের মারফত জানা গেছে, কেন্দ্র সরকারের তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়ে এবার লিখিত আকারে মেটা জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমস্ত পোস্টের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে। শুধু তাই নয়, দেশের অন্যান্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা ‘প্রমিনেন্ট’ অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। সংস্থার তরফে আরও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কোনো পোস্ট ব্লক বা সরানোর মতো কোনো স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র মেটার সিনিয়র বা শীর্ষ আধিকারিকরাই সরাসরি পর্যালোচনা করবেন। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রীর কোনো পোস্ট রিমুভ করার আগে অন্তত দু’জন শীর্ষ স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের কঠোর অনুমোদন ও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তবেই তা এগোতে পারবে।
এদিকে সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহেই মেটার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ভারত সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন। সেখানে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, এআই (AI) মডারেশন এবং সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কেন্দ্র ও মেটার অবস্থান:
ভিডিও ডিলিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেটা এবং ইনস্টাগ্রামের শীর্ষ কর্তাদের তলব করেছিল কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)। মন্ত্রক অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, মেটার প্রাথমিক ব্যাখ্যায় তারা মোটেও সন্তুষ্ট নয়। এই বিষয়ে গত মঙ্গলবার তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণন সাফ জানিয়ে দেন যে, মেটা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাদের সেই ব্যাখ্যা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। ঠিক কোন যান্ত্রিক বা মনগড়া ত্রুটির কারণে এই ঘটনা ঘটল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ভুল এড়াতে তারা কী ধরনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করবে, সে বিষয়ে আরও গভীর ও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিল কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় সরকারের মূল বক্তব্য ছিল যে, মেটার স্বয়ংক্রিয় এআই-ভিত্তিক (AI-based) কনটেন্ট মডারেশন সিস্টেম যদি দেশের একজন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি অ্যাকাউন্টের পোস্টও ভুলবশত সরিয়ে দিতে পারে, তবে সেই প্রযুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়। তাই ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের সাইবার বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বিষয়ে মেটার কাছে লিখিত রূপরেখা ও জবাব তলব করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার।