শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে শোকের ছায়া! প্রয়াত বিষ্ণুপুর ঘরানার শতায়ু শিল্পী অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান ঘটাল শতায়ু সঙ্গীতসাধক অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ। বিষ্ণুপুর ঘরানার বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী ও প্রবীণ গুরু অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার দুপুর আড়াইটায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, হৃদরোগে (ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর প্রয়াণে গোটা সঙ্গীত মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শারীরিক অসুস্থতা ও শেষ দিনগুলি
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই কোমর ভাঙার কারণে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার বাসভবনে ফিরিয়ে আনা হলেও, দিন দুয়েক আগে তাঁর স্বাস্থ্যের ফের অবনতি ঘটে। এরপর তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। পরিবারের আশা ছিল তিনি লড়াই করে ফিরে আসবেন, কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি সুরের রাজ্য ত্যাগ করেন।
অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্ণময় জীবন ও সাধনা
১৯২৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া অমিয়রঞ্জনবাবু জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সঙ্গীতের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। ঐতিহ্যবাহী বিষ্ণুপুর ঘরানার দীর্ঘ পাঠ তিনি পেয়েছিলেন তাঁর পিতা সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে। তবে শুধুমাত্র একটি ঘরানায় নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে, তিনি সঙ্গীতের নন্দনতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রিও অর্জন করেছিলেন।
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ বছর অধ্যাপনা করে তিনি অজস্র গুণী শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন। বিশেষ উল্লেখ্য, শতবর্ষে পদার্পণ করার বিশেষ দিনেও মঞ্চে একটানা ৪০ মিনিট ‘বেহাগ’ রাগ পরিবেশন করে শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করেছিলেন এই প্রবীণ শিল্পী। তাঁর এই প্রয়াণ ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অপূরণীয় ক্ষতি।