‘অমিত শাহ লোকসভায় আসতেই ভয় পান!’ লোকসভার অন্দরে রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক মন্তব্যে চরম রাজনৈতিক তোলপাড়

ভারতীয় সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম উত্তাল ও নাটকীয় এক অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল লোকসভা। সংসদের নিম্নকক্ষে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং বিস্ফোরক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বেধে যায়। রাহুল গান্ধী সরাসরি অভিযোগ করেন যে, দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় তাঁর মুখোমুখি হওয়ার সাহস পান না এবং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ দিয়ে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাহুলের এই ধরনের মারমুখী ও সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পরেই সংসদের অন্দরে তীব্র হট্টগোল শুরু হয় এবং শাসক দলের সংসদ সদস্যরা এর প্রবল প্রতিবাদ জানান।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে যখন রাহুল গান্ধী লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন যে, তথাকথিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে সংসদে এসে তার সামনে বসার মতো কোনো নৈতিক সাহস নেই। রাহুল আরও অভিযোগ করেন যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীরা যে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে, তা দমাতে সরাসরি হিংসার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করে এবং তাদের রক্ত ঝরায়। এই গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরেই লোকসভার পরিবেশ মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রাহুল গান্ধীর এই অনভিপ্রেত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসরে নামেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি অত্যন্ত চড়া সুরে রাহুল গান্ধীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি এমন কোনো লিখিত বা মৌখিক নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তবে সেই নির্দেশ বা প্রমাণ অবিলম্বে সংসদের টেবিলে পেশ করতে হবে। রিজিজু স্পষ্টভাবে জানান যে, কোনো রকম ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন তথ্য দিয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া বরদাস্ত করা হবে না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন খোদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে, একজন বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব হলো অত্যন্ত সততা ও তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলা। স্পিকার স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, যতক্ষণ না রাহুল গান্ধী তাঁর এই বিস্ফোরক দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট ও জোরালো তথ্য বা প্রমাণ পেশ করছেন, ততক্ষণ তাঁর এই মন্তব্যগুলি কার্যবিবরণী বা সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
এদিকে, বিরোধী শিবিরের সাংসদরা ‘রাহুল গান্ধীকে বলতে দাও’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একদিকে শাসক দলের প্রবল আপত্তি এবং অন্যদিকে বিরোধীদের স্লোগানবাজির জেরে গোটা সংসদ চত্বর রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। উভয় পক্ষের এই তীব্র বিরোধ ও অচলাবস্থার কারণে বাধ্য হয়ে লোকসভার স্পিকার অধিবেশন দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।