“ছাত্রদের রক্তে পেলেট ঢুকিয়েছেন শাহ!” সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চরম বিস্ফোরক অভিযোগ রাহুল গান্ধীর

লোকসভায় বুধবার অ্যান্টি-পেপার লিক বিল নিয়ে আলোচনার সময় সুর চড়ালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশি দমনপীড়ন নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন তিনি। রাহুলের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই প্রতিবাদী পড়ুয়াদের ওপর গুলি ও পেলেট গান চালানো হয়েছে। এই মন্তব্যের পরই শাসক দলের সাংসদদের প্রতিবাদের জেরে উত্তাল হয়ে ওঠে সংসদ।

এদিন লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আমাদের ছাত্রদের রক্তে পেলেট ঢুকিয়ে দিয়েছেন। ভারতের ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ তিনিই দিয়েছেন।” গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘কোকরচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে আয়োজিত ‘সংসদ চলো’ আন্দোলনের সময় পুলিশি সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে এই অভিযোগ করেন কংগ্রেস নেতা। ওই দিন পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম ও স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং পেলেট গান ব্যবহার করেছিল দিল্লি পুলিশ, যার ফলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

রাহুল গান্ধীর মুখে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ শোনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ট্রেজারি বেঞ্চের সাংসদরা। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সহ এনডিএ-র অন্যান্য সাংসদরা তীব্র আপত্তি জানিয়ে রাহুলকে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ পেশ করার দাবি জানান। শাসক দলের সাংসদরা স্লোগান দিতে শুরু করলে লোকসভায় সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও হস্তক্ষেপ করে রাহুল গান্ধীকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংসদের ভেতরে যথাযথ প্রমাণ বা তথ্য ছাড়া এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ করা যায় না। এনডিএ সাংসদরা অবিলম্বে রাহুল গান্ধীকে তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন।

এর আগে চলতি সপ্তাহেই এই ‘বর্বর আক্রমণ’ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে কৈফিয়ত তলব করেন রাহুল গান্ধী। চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর নির্বিচারে বলপ্রয়োগ, মারাত্মক অস্ত্র ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের অনুমতি কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই দিয়েছিলেন? উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাইয়ের এই ছাত্র আন্দোলনের জেরে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তবে বুধবার লোকসভায় রাহুল গান্ধীর এই নতুন বিস্ফোরক অভিযোগকে কেন্দ্র করে শাসক বনাম বিরোধী সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।