ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে অবৈধ টাকা আদায়! রাতের অন্ধকারে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে শাসকদল

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের নাজরা গ্রামে আবাস যোজনার সার্ভেকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটা এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে সার্ভের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাটমানি ও অবৈধ অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলছিল। এই আকস্মিক ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী এবং অভিযুক্তদের ঘিরে ধরে তীব্র বিক্ষোভ দেখান।

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাত প্রায় দশটা নাগাদ। অভিযোগ ওঠে যে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা রেজাউল শেখ এক পঞ্চায়েত আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে নাজরার ১২৪ নম্বর বুথ এলাকায় আচমকা উপস্থিত হন। দিনের আলোর পরিবর্তে কেন ঠিক রাত দশটার সময় সরকারি আবাস যোজনার সার্ভে করা হচ্ছে, তা নিয়ে গ্রামবাসীদের মনে প্রবল সন্দেহ দানা বাঁধে। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়তেই জনতা একত্রিত হয়ে ওই দলটিকে ঘিরে ধরে এবং জেরা শুরু করে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা বচসা থেকে হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তরজা তুঙ্গে উঠেছে।

গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, আবাস যোজনা এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অতীতে এলাকার এক প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য বহু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ও কাটমানি তুলেছিলেন। সেই ক্ষোভের আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার আগেই ফের রাতের অন্ধকারে একই ধরনের তৎপরতা শুরু হওয়ায় জনরোষ তীব্র আকার ধারণ করে। ভুক্তভোগীদের দাবি, রেজাউল শেখ ও পঞ্চায়েত আধিকারিক সাবির মোল্লা মিলে নতুন করে টাকা তোলার ছক কষেছিলেন।

উত্তেজনা বাড়তেই খবর দেওয়া হয় উস্তি থানায়। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, পুলিশের গাড়ি পৌঁছনোর আগেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ও পঞ্চায়েত আধিকারিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এরপর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা সশরীরে উস্তি থানায় উপস্থিত হয়ে রেজাউল শেখ ও সাবির মোল্লা-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁরা অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসানুর গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রেজাউল শেখ আবাস যোজনার ঘর সহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আমাদের কাছ থেকে একাধিকবার টাকা নিয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন গুন্ডা দমন আইনে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক।” অপর এক ভুক্তভোগী মমতাজ বিবি শেখ জানান, “আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আমার কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি কোনো ঘর পাইনি।”

অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক শামিম আহমেদ জানিয়েছেন যে বিষয়টি ইতিমধ্যেই তাঁর নজরে এসেছে এবং পুরো ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি এবং পুলিশি তদন্তের রিপোর্টের উপরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করছে।