আজই জীবনের সমস্ত ঋণ থেকে মিলবে মুক্তি! গুরু পূর্ণিমায় জেনে নিন কোন মহাপূজায় কাটবে দুর্দিন?

আজ পরম পবিত্র আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মহিমান্বিত এই দিনটি দেশজুড়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে গুরু পূর্ণিমা উৎসব হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের এই বিশেষ তিথিতে আমাদের জীবনে শিক্ষক ও পথপ্রদর্শকদের অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁদের পুজো ও সম্মান জানানোর প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। যাঁরা আমাদের জীবনকে সফল ও অর্থপূর্ণ করতে প্রতিনিয়ত কোনো না কোনোভাবে অবদান রেখে চলেছেন, তাঁদের প্রতি অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক অনন্য সুযোগ এনে দেয় এই পবিত্র গুরু পূর্ণিমা।

এই দিনটি আমাদের জীবনে পরম আরাধ্য সকল গুরুকে স্মরণ এবং গভীর শ্রদ্ধায় প্রণাম জানানোর মোক্ষম সময়। সনাতন শাস্ত্র ও পুরাণে বলা হয়েছে যে গুরুর স্থান স্বয়ং ঈশ্বরের চেয়েও অনেক উঁচুতে। শুধু গুরু পূর্ণিমার এই দিনটিই নয়, এর পরবর্তী চার দিনও বিদ্যাচর্চা ও পড়াশোনার জন্য অত্যন্ত শুভ ও ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গুরু পূর্ণিমার সন্ধ্যার আলোয় বিশেষ প্রার্থনা ও আরাধনার পাশাপাশি একটি অতি সহজ আচার পালন করলে বানচাল হতে পারে সমস্ত আর্থিক সংকট এবং মিলতে পারে অভিশপ্ত ঋণমুক্তি। তাহলে চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক সেই বিশেষ প্রতিকারটি সম্পর্কে।

নিজের জন্মতারিখের একটি সহজ গণনার মাধ্যমে প্রথমে আপনার নিজস্ব মূলাঙ্ক খুঁজে বের করুন এবং আজকের শুভ সন্ধ্যায় এই বিশেষ প্রতিকারটি সম্পন্ন করুন। গুরু পূর্ণিমার এই পবিত্র দিনে সন্ধ্যার সময় প্রথমে যেকোনো নিকটবর্তী মন্দিরে গিয়ে ভক্তিভরে একটি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করুন। এরপর সনাতন নিয়মানুসারে ভগবান বিষ্ণু বা নারায়ণের পবিত্র মন্ত্রটি একনাগাড়ে ১১ বার জপ করুন। মন্ত্রটি হলো— ‘ওম নমো ভগবতে নারায়ণায়’। ধর্মীয় পঞ্জিকা ও লোকবিশ্বাস অনুসারে, গুরু পূর্ণিমার এই গোধূলিলগ্নে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই প্রতিকারটি পালন করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও উপকারী। বিশ্বাস করা হয় যে, এর প্রভাবে ভক্তদের সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়।

সনাতন ধর্মে গুরুর আসন সর্বদাই সর্বাগ্রে এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তিনিই আমাদের অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে বের করে জ্ঞানের আলোর পথে নিয়ে যান। যখন কোনো সাধারণ মানুষ জীবনের জটিল বাঁকে সঠিক পথ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন, ঠিক তখনই একজন দক্ষ গুরু তাঁকে আলোর পথ দেখান এবং জীবনের সঠিক দিশা প্রদান করেন। একমাত্র গুরুর অশেষ কৃপাতেই মানুষ দুনিয়ায় প্রকৃত জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং অদম্য আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে সমর্থ হয়। একজন প্রকৃত গুরু মানুষকে সমাজে ভালো ও মানবিক গুণসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা নেন। এই কারণেই আমাদের সমাজে গুরুকে পিতা-মাতা এবং স্বয়ং ঈশ্বরের সমতুল্য আসনে বসিয়ে শ্রদ্ধা করা হয়।