পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষকের মৃত্যুর ঘটনায় বড় সমঝোতা! মিলল বিশাল আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও চাকরি!

পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের (পিইউ) চত্বরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হওয়া ২৮ বছর বয়সি কৃতি পিএইচডি গবেষক জ্যোতির ঘটনায় অবশেষে দীর্ঘ টালবাহানার পর প্রশাসন ও শোকাহত পরিবারের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। সরকারি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের এক সদস্যের চাকরির সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ভিত্তিতে অবশেষে পরিবারটি চণ্ডীগড়ের সেক্টর ১৬-এর সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (জিএমসিএইচ-১৬) মর্গে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করাতে সম্মত হয়। আইনি সমস্ত প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার পর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়রা জ্যোতির মরদেহটি নিয়ে হরিয়ানার মহেন্দ্রগড় জেলার পৈতৃক গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন, যেখানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তির শর্তানুসারে, ভুক্তভোগী জ্যোতির পরিবার ডিন স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার (ডিএসডব্লিউ) তহবিল থেকে এককালীন ৬১ লক্ষ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের স্বেচ্ছাসেবী তহবিল থেকে আরও ৫০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা হিসেবে লাভ করবে। এছাড়া জ্যোতির পরিবারকে পুনর্বাসন দিতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে তাঁর ছোট ভাইকে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি উপযুক্ত চাকরির বন্দোবস্ত করে দেওয়া হবে। আইটিআই থেকে ইলেকট্রিশিয়ান কোর্সে ডিগ্রি অর্জনকারী ওই যুবকের হাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার এই পদক্ষেপে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। পরিবারের এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের এমন মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তুলতে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, হরিয়ানার রেওয়ারির বাসিন্দা জ্যোতি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে অত্যন্ত মেধাবী গবেষক হিসেবে পিএইচডি করছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ নম্বর গার্লস হোস্টেলে থাকতেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও সকালে তিনি নিজের হোস্টেল থেকে ডিপার্টমেন্টের দিকে যাওয়ার পথেই চরম ট্র্যাজেডির শিকার হন। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণের ফলে গার্লস হোস্টেল-৮ এবং ইউআইইটি এলাকার মধ্যবর্তী রাস্তাটি জলের নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। সেই জলমগ্ন রাস্তার পাশে থাকা একটি ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে জল বিদ্যুৎায়িত হয়ে পড়ে, যার ফলেই অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান জ্যোতি। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রশাসনের সঙ্গে মৃতার পরিবারের এই আর্থিক সমঝোতা ও চুক্তি সম্পন্ন হলেও সামগ্রিক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষ এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ঘটনার ঠিক পরপরই উত্তাল শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোর চরম অবহেলা এবং প্রশাসনের উদাসীনতার বিরুদ্ধে তাদের এই আন্দোলন ভবিষ্যতে আরও কোন মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভ প্রশমিত করতে প্রশাসন কতটা সফল হয়, তার ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের ক্যাম্পাসের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পঠনপাঠনের পরিবেশ।