নিট কাণ্ডে তুলকালাম! কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলে ফের দেশজোড়ে মেগা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড এবং তার জেরে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও ছাত্র অসন্তোষের আবহে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আরও একবার অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে অতীতে দায়ের হওয়া সমস্ত পুলিশি এফআইআর (FIR) এবং মামলা নিঃশর্তে প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে পূর্বে সুনির্দিষ্ট লিখিত আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্ট শুনানির সময় সরকারি আইনজীবীরা সেই প্রতিশ্রুতির কথা আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি, যার ফলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এই রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনটি।
গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে একটি অন্তর্বর্তী রায়ে গ্রেফতার হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সী নাবালক পড়ুয়া এবং যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের ইতিহাস নেই, সেই সমস্ত শিক্ষার্থীদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন ও আইনি সুরক্ষা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায়ের পর আপাতস্বস্তি মিললেও সিজেপি-র পক্ষ থেকে চরম অসন্তোষ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের প্রধান ক্ষোভের মূল কারণ হলো, সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী রায়ে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের একাংশ সাময়িক আইনি সুরক্ষা পেলেও, রাজ্য সরকারগুলিকে আগের সমস্ত এফআইআর এবং চলমান পুলিশি তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি বহাল রাখা হয়েছে। আর এখানেই গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে সিজেপি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করা হয়েছে যে, গত গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জোরালো দাবির মুখে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া সমস্ত পুলিশি মামলা ও আইনি হয়রানি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার এক স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্র সরকার। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সুপ্রিম কোর্টে যখন এই সংক্রান্ত মামলাগুলির শুনানি চলছিল, তখন সরকারি প্রতিনিধিরা কেন্দ্রের এই আশ্বাসের বিষয়টি আদালতের গোচরে আনেননি। এর ফলে আদালতের তরফে পূর্বের আইনি মামলাগুলি বজায় রাখার পথ প্রশস্ত হয়েছে। সিজেপির স্পষ্ট অভিযোগ, এই আইনি ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে এবার বিজেপি ও এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলির প্রশাসন সাধারণ ও নিরীহ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক আইনি পদক্ষেপ এবং নির্মম দমনপীড়ন চালাতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে সিজেপির বিশিষ্ট নেতা অভিজিৎ দীপক সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, পুলিশ যদি এইভাবে প্রতিনিয়ত সাধারণ ছাত্রদের হেনস্থা করতে থাকে, তবে ককরোচ জনতা পার্টি খুব শিগগিরই আরও অনেক বেশি তীব্র ও রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। সরকারের অবিলম্বে ছাত্রসমাজের ওপর এই প্রশাসনিক ও পুলিশি অনাচার চিরতরে বন্ধ করা উচিত। অন্যদিকে, দলের অন্য এক মুখপাত্র সৌরভ দাস অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে লিখেছেন যে, দেশের আদালত ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। গত ২৫ জুলাই দেশের তরুণ প্রজন্মের সামনে যে পবিত্র প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতেই হবে এবং সমস্ত বানোয়াট এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
সিজেপি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে যে, বিতর্কিত মামলাগুলি প্রত্যাহার করার জন্য কেন্দ্র সরকারকে যে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা ইতিমধ্যে মঙ্গলবারই আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সংগঠনের বক্তব্য, বিহার কিংবা অসমের মতো রাজ্য সরকারগুলি যেভাবে নমনীয় মনোভাব দেখিয়ে ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, ঠিক একই পথ কেন্দ্র ও অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারগুলিকেও অবিলম্বেই বেছে নিতে হবে। যদি কেন্দ্র সরকার আদালতের সামনে ওই যৌথ সমঝোতার শর্ত পেশ করে অবিলম্বে বকেয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার না করে, তবে ভারতের বিক্ষুব্ধ তরুণ সমাজ ও দেশের মেধাবী পড়ুয়ারা নিজেদের অধিকার রক্ষায় ফের একবার রাজপথে নেমে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে বাধ্য হবে বলে এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে সিজেপি।