পুলিশকর্মীদের জন্য বিরাট উপহার! পুজোতেই ১ লক্ষ নতুন চাকরি ও রেশন ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা

মঙ্গলবার কলকাতার ঐতিহাসিক ভবানী ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনকে নিয়ে একাধিক অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক বা ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার। রাজ্য পুলিশের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নত করতে প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে এদিনের এই সভা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
মঙ্গলবারের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, “আগামী দিনে আমরা রাজ্য পুলিশের হারানো গরিমা এবং কলকাতা পুলিশের উচ্চতা যে স্বর্ণালী জায়গায় ছিল, ঠিক সেই উচ্চতাতেই পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালাব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত দু’দিন ধরে এক দিন উত্তরবঙ্গে এবং এক দিন খোদ কলকাতায় পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যে, কী ভাবে আমাদের পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি আধুনিক ও উন্নত করা সম্ভব।” এদিনের এই মহা-অনুষ্ঠান থেকে পুলিশ বিভাগে এক লক্ষ নতুন চাকরির ঐতিহাসিক ঘোষণা এবং রেশন ভাতা বৃদ্ধি সহ একাধিক বড়সড় জনকল্যাণমূলক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
একইসঙ্গে কলকাতা পুলিশ, বিধাননগর কমিশনারেট-সহ রাজ্য পুলিশের সমস্ত স্তরের কর্মীদের হাতে বিশেষ মনসুন কিট বা বর্ষার সামগ্রী তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ কর্মীদের জন্য উচ্চমানের গামবুট ও বর্ষাতি দেওয়ার এই বিশেষ সিদ্ধান্তের পিছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ফিরে যান একটি পুরোনো বৃষ্টি ভেজা দিনের স্মৃতিতে। অনুষ্ঠানে আবেগঘন কন্ঠে তিনি বলেন, “আমার সত্যি খুব খারাপ লেগেছিল, যখন দেখলাম প্রবল বৃষ্টির মধ্যে আমাদের পুলিশ কর্মীরা রাস্তায় সম্পূর্ণ ভিজে ডিউটি করছেন। আমি তখনই ডিজি ও সিপিকে ডেকে বললাম যে এঁরা তো সবাই জ্বরে ভুগবেন। তাই আমি তৎক্ষণাৎ নির্দেশ দিলাম যে এদের সকলের জন্য অবিলম্বে ভালো মানের বর্ষাতি ও গামবুট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এদিনের ভবানী ভবনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই পুলিশ কর্মীদের মাসিক রেশনের ভাতা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, “আমাদের সাহসী পুলিশ কর্মীদের রেশনের ভাতা এক ধাক্কায় ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হলো। ইতিপূর্বে ২০১৭ সালে এই ভাতা ১৫০০ টাকা করা হয়েছিল, যা এখন থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ২০০০ টাকা করা হলো। এ বারের দুর্গাপূজা থেকেই এই বর্ধিত ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া শুরু হবে।” স্বাভাবিকভাবেই আসন্ন পুজোর প্রাক্কালে এই বড় উপহার পেয়ে রাজ্য পুলিশের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
ভবানী ভবনের মঙ্গলবারের এই মহা-অনুষ্ঠান থেকে জনসাধারণের সুবিধার জন্য মোট চারটি নতুন টোল-ফ্রি নম্বরও প্রকাশ্যে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিগত সরকারের আমলের সময় আমাদের রাজ্য জুড়ে প্রশাসনের নানা বদনাম হয়েছিল। এই বিশেষ নম্বরগুলির শুভ সূচনার পর আমি সরাসরি নবান্নের কন্ট্রোল রুমে যাব। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ নিজেদের অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন। সমস্ত অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শুনে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আমি পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি, কেউ যেন এই নম্বরগুলির অপব্যবহার করার চেষ্টা না করেন। কেউ যদি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার অসৎ উদ্দেশ্যে এগুলির অপব্যবহার করেন, তবে যিনি করবেন তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”