ক্ষমতার পালাবদল কি তবে আরও এক আইপিএস পরিবারকে কোণঠাসা করল?

বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর পদত্যাগের ঘটনা সামনে আসছে। সেই ধারায় এবার সরাসরি রাজ্য সরকারের তথ্য কমিশনের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন ডিজি তথা প্রভাবশালী আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের স্ত্রী সঞ্চিতা কুমার। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এই পদত্যাগ রাজ্য প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পরেই আমলা মহলে যেভাবে রদবদল শুরু হয়েছে, এটি তারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
সূত্রের খবর এবং ইস্তফাপত্র অনুযায়ী, রাজ্য সরকার আর তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখতে ইচ্ছুক নয়। এই সরকারি মনোভাব স্পষ্ট হওয়ার পরেই কোনো রকম অনাবশ্যক বিতর্ক এড়াতে তিনি নিজেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। রাজ্যপালকে পাঠানো নিজের পদত্যাগপত্রে সঞ্চিতা কুমার অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, রাজ্য সরকারের অনীহার কথা তাঁকে টেলিফোনে বা বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছিলেন তথ্য কমিশনের সচিব। সেই বার্তা পাওয়ার পরেই তিনি আর পদ আঁকড়ে থাকতে চাননি।
নিজের পদত্যাগের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যম ও রাজ্যপালকে জানান, সরকার যদি আর ভরসা না রাখে, তবে সেই পদে কাজ চালিয়ে যাওয়া অর্থহীন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, বিগত দিনে নিজের দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁকে নিয়ে কোনো রকম রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিতর্ক তৈরি হোক, তা তাঁর কাম্য নয়। আর সেই কারণেই স্বেচ্ছায় এই অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অতীতে তৃণমূল জমানায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানো আমলাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর নতুন সরকারের আমলে পরোক্ষ চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। সঞ্চিতা কুমারের এই পদত্যাগ সেই তাত্ত্বিক সমীকরণকেই ফের একবার উসকে দিল। রাজ্য তথ্য কমিশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ থেকে এহেন আকস্মিক প্রস্থান ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সব মিলিয়ে, রাজীব কুমার পত্নীর এই ইস্তফাপত্র বঙ্গে আমলাতন্ত্র এবং রাজনীতির অন্তহীন দ্বন্দ্বের আরেকটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করল।