বেশি কাজ করলেই কি বেশি সফলতা? মারাত্মক এই ৫টি অভ্যাস আপনাকে বিপদে ফেলছে না তো?

আজকের এই দ্রুতগতির যুগে একটানা ব্যস্ত থাকাকেই অনেকে সফলতা বা ‘প্রোডাক্টিভিটি’ (Productivity)-র চাবিকাঠি বলে ভুল করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেকে সর্বক্ষণ কাজের চাপে ক্লান্ত ও অবসন্ন করে রাখার নাম উৎপাদনশীলতা নয়। প্রচলিত এমন কিছু অভ্যাস রয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে বেশি কাজের উপায় মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে আপনার কর্মদক্ষতা কমায় এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত করে।
কর্মক্ষেত্রে নিজেকে দীর্ঘমেয়াদে সক্রিয়, সুস্থ ও উৎপাদনশীল রাখতে কোন মারাত্মক ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত—জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মতামত:
১. এক সঙ্গে একাধিক কাজ (Multitasking) করার ভুল
অনেকেই মনে করেন একই সাথে কয়েকটা কাজ সামলালে সময় বাঁচে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গবেষণা বলছে, মাত্র ২.৫ শতাংশ মানুষ প্রকৃতপক্ষে দক্ষতার সাথে মাল্টিটাস্কিং করতে পারেন।
একদিকে মিটিং চলাকালীন অন্য ই-মেলের উত্তর দেওয়া বা চ্যাট করার ফলে মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়। এতে মনোযোগ বারবার বিচ্ছিন্ন হয়, ভুল কাজের পরিমাণ বাড়ে এবং সময়ও বেশি নষ্ট হয়। তাই প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রেখে একটি নির্দিষ্ট কাজেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।
২. কাজের ফাঁকে বিরতি না নেওয়া
ব্যস্ততার অজুহাতে দুপুরের খাবারের সময়ও ল্যাপটপের সামনে বসে থাকা বা বিরতি না নেওয়ার অভ্যাস আসলে কাজের ক্ষতি করে। একটানা কাজ করলে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ: কাজের মাঝে ছোট ছোট বিরতি (Short Breaks) শরীর ও মনকে রিচার্জ করে। বিরতির সময় অন্য কোনো কাজের চিন্তা না করে সম্পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া উচিত, যাতে পরবর্তীতে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করা যায়।
৩. অতিরিক্ত বড় ‘টু-ডু লিস্ট’ (To-Do List) তৈরি
সারাদিনের কাজের তালিকা বা ‘টু-ডু লিস্ট’ যদি অতিরিক্ত বড় হয়, তবে তা কাজ সহজ করার বদলে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিদিনের তালিকায় কেবল সবচেয়ে জরুরি ও অগ্রাধিকার পাওয়ার মতো কাজগুলোই স্থান দিন। তালিকা ছোট থাকলে কাজ দ্রুত শেষ করার তাড়না থাকে এবং কাজের চাপ কম অনুভূত হয়।
৪. সব সময় কাজের জন্য প্রস্তুত বা ‘অলওয়েজ অন’ থাকা
অফিসের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পরেও ফোন বা মেলের দিকে নজর রাখা বা মেসেজের অপেক্ষায় থাকার অভ্যাসকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘অলওয়েজ অন’ (Always-On) মেন্টালিটি।
ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ শায়না বার্গম্যানের মতে, এই মানসিকতা মানুষকে সবসময় প্রতিক্রিয়াশীল (Reactive) করে রাখে, যা ভেতরে ভেতরে মানসিক শক্তি দ্রুত ক্ষয় করে। কাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হতে না পারলে মস্তিষ্ক বিশ্রামের সুযোগ পায় না, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদে ‘বার্নআউট’ (Burnout) ও দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। কাজের পর নিজের ব্যক্তিগত জীবনের জন্য স্পষ্ট সীমারেখা টানা অত্যন্ত জরুরি।
৫. সব অনুরোধেই চোখ বন্ধ করে ‘হ্যাঁ’ বলা
সহকর্মীদের খুশি রাখতে বা পেশাগত ঝামেলা এড়াতে অনেকেই নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।
ক্যারিয়ার কোচ কাইল এলিয়টের মতে, সব অনুরোধে সম্মতি দেওয়া উদারতা নয়, বরং এতে ভবিষ্যতে নিজের সময় ও শক্তির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। আপনি যদি সব দায়িত্ব নিজে নিতে থাকেন, তবে অন্যরাও ধীরে ধীরে সম্পূর্ণভাবে আপনার ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। ফলে নিজের মূল কাজে মনোযোগ দেওয়া অসম্ভব হয়ে উঠবে। তাই নিজের সীমানা বুঝে প্রয়োজনে নম্রভাবে ‘না’ বলতে শেখাও প্রোডাক্টিভিটির একটি বড় অঙ্গ।