দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আইটিইপি (ITEP) কোর্সে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু! অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন প্রার্থীরা!

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (DU) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় চার বছর মেয়াদী ইন্টিগ্রেটেড টিচার এডুকেশন প্রোগ্রাম (ITEP)-এর ভর্তি প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে দিয়েছে। যে সমস্ত শিক্ষার্থী স্নাতক পড়াশোনার পাশাপাশি পেশাদার শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হতে ইচ্ছুক, তাঁদের জন্য এটি একটি বিরাট সুযোগ। যে সকল প্রার্থী ন্যাশনাল কমন এন্ট্রান্স টেস্ট (NCET) ২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন, তারা এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এই চার বছর মেয়াদী বিশেষ স্নাতক প্রোগ্রামটিতে শিক্ষক শিক্ষার (Teacher Education) সঙ্গে একটি একক মেজর (Single Major) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রার্থীরা তাঁদের আগ্রহ এবং পছন্দ অনুযায়ী ভাষা, ইতিহাস, গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান, রসায়ন, অর্থনীতি, সংগীত, কলা এবং পদার্থবিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন বিষয় বেছে নিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, এই কোর্সে সম্পূর্ণভাবে NCET ২০২৬-এ প্রাপ্ত স্কোরের মেধার ভিত্তিতেই ভর্তি নেওয়া হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রার্থীদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল আইটিইপি পোর্টালে গিয়ে নিজেদের NCET আবেদন নম্বর, রোল নম্বর, নাম এবং জন্মতারিখ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর লগ ইন করে আবেদনপত্র সঠিকভাবে পূরণ, প্রয়োজনীয় নথি আপলোড এবং নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। আবেদন করার সময় প্রার্থীদের যে সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে—পাসপোর্ট সাইজের ছবি, স্বাক্ষর, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির মার্কশিট, স্নাতক ডিগ্রি (যদি প্রযোজ্য হয়), পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কাজের অভিজ্ঞতার সনদপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়) এবং সংরক্ষিত শ্রেণিভুক্ত হয়ে থাকলে তার যথাযথ ক্যাটাগরি সার্টিফিকেট। আবেদনের জন্য জেনারেল, ওবিসি (নন-ক্রিমি লেয়ার) এবং ইডব্লিউএস (EWS) ক্যাটাগরির প্রার্থীদের ২৫০ টাকা আবেদন ফি দিতে হবে, যা সম্পূর্ণ অ-ফেরতযোগ্য (Non-refundable)। অন্যদিকে, তপশিলি জাতি (SC), তপশিলি উপজাতি (ST) এবং ভিন্নভাবে সক্ষম (PwBD) প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি মাত্র ১০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, আইটিইপি (ITEP)-তে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে NCET ২০২৬-এর স্কোরের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হবে। এমনকি যে সকল প্রার্থী বর্তমানে তাঁদের যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা দিচ্ছেন কিংবা চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন, তাঁরাও এই কোর্সে আবেদন করার জন্য যোগ্য। পরবর্তীতে এই এনসিইটি স্কোর এবং প্রার্থীরা অনলাইনে যে সমস্ত পছন্দ বা চয়েস পূরণ করবেন, তার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রস্তুত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে এও জানানো হয়েছে যে, আসন বণ্টন, কাউন্সেলিং এবং ভর্তির পুরো সময়সূচী খুব শীঘ্রই আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে। কোনো ধরনের শেষ মুহূর্তের প্রযুক্তিগত ঝামেলা বা সমস্যা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় সকল আগ্রহী শিক্ষার্থীকে শেষ তারিখের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত আবেদনপত্র পূরণ করতে এবং সমস্ত নথিপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আপলোড করার পরামর্শ দিয়েছে।