বিহার থেকে দিল্লি—ছাত্র বিক্ষোভে একে-৪৭ ও ছররা গুলির ব্যবহার! তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতে উত্তাল দেশের রাজধানী

ছাত্র নাকি সন্ত্রাসী? দিল্লির হাই-প্রোফাইল নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এখন তীব্র প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। রাজধানী দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদের জলোচ্ছ্বাসকে রুখে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কখনও নির্মমভাবে ছররা গুলি চালাতে দেখা গিয়েছে, আবার কখনও সরাসরি একে-৪৭ (AK-47) রাইফেল তাক করে থাকতে দেখা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ওপর রাষ্ট্রের এই চরম দমনমূলক মনোভাব ও পুলিশি বাড়াবাড়ি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। বিরোধী শিবির এই বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ তুলেছে।
এই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণু গোপাল অত্যন্ত জোরালো ভাষায় দাবি তুলেছেন যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এই গুরুতর বিষয়ে অবিলম্বে লোকসভায় এসে জবাবদিহি করতে হবে। কার প্রত্যক্ষ নির্দেশে দিল্লির নিরস্ত্র পড়ুয়াদের ওপর ছররা গুলি চালানো হলো? সরকারের কাছে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতেই হবে। ইতিমধ্যেই এই স্পর্শকাতর মর্মে স্বরাষ্ট্র দফতরে লিখিত প্রশ্ন তুলে কড়া ভাষায় একটি চিঠি পাঠিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। যা নিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে চরম উত্তাপ ছড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ছররা গুলি ও বলপ্রয়োগের এই বিতর্ক যখন সম্পূর্ণ জাতীয় রাজনীতিকে তপ্ত করে তুলেছে, ঠিক সেই সময়েই বিহারে চলা ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরেও নতুন করে মারাত্মক প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। বিহারে আন্দোলন দমনের সময় এক পুলিশ কর্মীর হাতে একে-৪৭ (AK-47) ব্যবহারের ঘটনায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP)-র তরফ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বিহারের মোট তিনটি প্রধান অঞ্চলে—বিশেষ করে সিওয়ান, পাটনা এবং ছাপড়ায় পুলিশি অত্যাচারের মাত্রা সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এমনকি সেখানে আন্দোলনকারীদের দমাতে প্রকাশ্যেই একে-৪৭ পর্যন্ত চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কিন্তু ঠিক কার প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক নির্দেশে এই ধরনের ভয়ংকর পদক্ষেপ করা হলো? এই লাখ টাকার প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই এখন দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে দিল্লির সংসদ ভবন থেকে শুরু করে অন্যদিকে বিহারের স্থানীয় রাজনৈতিক ময়দান—সর্বত্রই বিরোধীরা একযোগে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সাধারণ ছাত্রসমাজ ও যুব শক্তির কণ্ঠস্বরকে দমন করার জন্যই কি এই ধরনের প্রশাসনিক সন্ত্রাস নামানো হলো? এই মৌলিক প্রশ্নটিকে সামনে রেখেই এখন জাতীয় রাজনীতির পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী।