ধর্মেন্দ্রর ইস্তফায় কি থামল ক্ষোভ? কলকাতার রাজপথে ধুন্ধুমার, ধৃতদের নিয়ে এসে তুলকালাম তদন্ত পুলিশের!

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মহলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ মেলেনি। জেন-জির আন্দোলন ও বিরোধীদের চাপ সাময়িক স্তিমিত হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিশেষ করে কলকাতার বুকে রাজনৈতিক লড়াই এখনও চরমে। প্রশ্নফাঁসের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে শাসক শিবিরকে প্রতিনিয়ত কোণঠাসা করে চলেছে বিরোধী শক্তিগুলি। অন্যদিকে, সরকারের তরফে কড়া বিল আনার দাবি তুললেও বিরোধীরা তাতে দমে যাওয়ার পাত্র নয়। বরং রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে একের পর এক আকস্মিক ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করছে।

দিল্লির উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল তিলোত্তমা শহর কলকাতাতেও। কলকাতার রাজপথে প্রতিবাদ মিছিল করার জন্য প্রথমে লালবাজারের কাছে লিখিত অনুমতি চেয়েছিল সিজেপি (CJP)। কিন্তু সেই অনুমতি না মেলায় শিয়ালদা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিকল্প বিশাল এক মিছিলের ডাক দেয় বামপন্থী আটটি ছাত্র সংগঠন। আর সেই মিছিলেই ওত পেতে থাকা সিজেপি-র কর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। কিন্তু বিগত শুক্রবার সেই মিছিলের একেবারে অন্তিম পর্বে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং চত্বরে এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন রণক্ষেত্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মিছিলের গতি রোধ করতেই পুলিশ এবং প্রতিবাদী পড়ুয়াদের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আইন অমান্য করে জুতো, ইট এবং জলের বোতল ছুড়তে শুরু করে। পালটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও লাঠিচার্জ করে। মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র ডোরিনা ক্রসিং চত্বর যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ নেয়। গোলমালের জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং সন্ধ্যা নামতেই বাম ছাত্র সংগঠনগুলি ঘোষণা করে যে তারা ধর্মতলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভে বসছে। তবে ছাত্র আন্দোলনের মূল আয়োজকদের দাবি, এই পরিকল্পিত সহিংসতার সঙ্গে তাঁদের কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই। বরং বহিরাগত ও সমাজবিরোধী চক্রকে সুকৌশলে প্রবেশ করিয়ে তাঁদের শান্তিপূর্ণ ও পবিত্র আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করার গভীর চক্রান্ত করা হয়েছে।

এই সংঘাতের জেরে একাধিক কর্তব্যরত সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা শারীরিক নিগ্রহের শিকার হন, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সংবাদমাধ্যমের ওপর এমন নজিরবিহীন আক্রমণের তীব্র নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এবং ওই একই রুটে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে মহাসমারোহে ‘তেরঙা যাত্রা’ করার হুঙ্কার দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার কড়া পুলিশি নিরাপত্তার বলয়ের মধ্যেই ঠিক ওই একই অশান্ত রুটে তেরঙা যাত্রা সম্পন্ন হয়।

এদিকে, ধর্মতলার সেই অশান্তির ঘটনায় তদন্তের গতি দ্বিগুণ বাড়িয়ে সোমবারই ধৃতদের সরাসরি মূল ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল। পুলিশি উপস্থিতিতে অপরাধের ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণ বা ক্রাইম সিন রিপ্রোডাকশন (Crime Scene Reconstruction) করা হয়। কোন উদ্দেশ্যে বহিরাগতরা ওই মিছিলে ঢুকেছিল এবং কীভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সব মিলিয়ে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ও ছাত্র আন্দোলনের বিজয় সত্ত্বেও বাংলার রাজনৈতিক আকাশের মেঘ এখনও কাটেনি।