১০ বছরের জেল ও ১০ কোটি টাকা জরিমানা! প্রশ্নফাঁস রুখতে মোদী সরকারের মেগা বিল ঘিরে সংসদে চরম হাঙ্গামা

জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থায় চলতে থাকা অনিয়ম, কারচুপি এবং কুখ্যাত প্রশ্নফাঁস চক্রকে চিরতরে নির্মূল করতে অবশেষে অত্যন্ত কঠোর আইনি পদক্ষেপ করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। সোমবার দুপুরে বিরোধী দলগুলির তীব্র হইহট্টগোল, হাঙ্গামা এবং স্লোগানের মাঝেই লোকসভায় পেশ করা হয়েছে বহুল আলোচিত ‘পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং এই সংশোধনী বিলটি কক্ষে উপস্থাপন করেন। তবে বিল পেশের প্রক্রিয়া শুরু হতেই প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর প্রশাসনিক দমনপীড়নের অভিযোগে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদের উভয় কক্ষ।

সোমবার সকালে সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই সরকারের জবাবদিহি দাবি করে আক্রমণ শানাতে শুরু করেন বিরোধী সাংসদেরা। হট্টগোলের তীব্রতার জেরে প্রথম দফায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতুবি রাখতে বাধ্য হয় দুই কক্ষের কাজকর্ম। পরবর্তীতে বেলা ১২টায় লোকসভার অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে বিরোধীদের ধারাবাহিক স্লোগান ও প্রতিবাদের মাঝেই মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলটি পেশ করেন। বিল পেশের পর্ব শেষ হবামাত্রই সংসদের অন্দরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় এবং স্পিকার বাধ্য হন দুপুর ২টো পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন পুনরায় মুলতুবি ঘোষণা করতে।

এই নতুন বিল পেশের পরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ শানাতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি বিরোধী শিবির। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিলটিকে সম্পূর্ণ ‘লোকদেখানো’ পদক্ষেপ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। দলের বিশিষ্ট সাংসদ গৌরব গগৈ সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দুর্বলতা ও ফাঁকফোকর দূর করতে বর্তমান বিজেপি সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন এই ধরনের কড়া আইনের আড়াল নেওয়া হচ্ছে।

অধিবেশন কক্ষের অন্দরে প্রতিবাদের পাশাপাশি সংসদ ভবনের বাইরেও আছড়ে পড়ে বিরোধীদের ক্ষোভের তীব্র ঢেউ। অধিবেশন মুলতুবি থাকার সুযোগে সংসদ চত্বরে একজোটে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ‘INDIA’ জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব। এই যৌথ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। সব মিলিয়ে, শিক্ষাক্ষেত্রের এই কেলেঙ্কারিকে হাতিয়ার করে মোদী সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে বিরোধী জোট।