মোদীর বিকৃত পোস্টার হাতে ভাইরাল ছবি! ট্রোলের ঝড় উঠতেই সাফাই দিয়ে কী বললেন শ্রীলেখা মিত্র?

কলকাতার বুকে একটি প্রতিবাদী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে ঘিরে এই মুহূর্তে চরম রাজনৈতিক ও আইনি শোরগোল শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে নেটদুনিয়ায় টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের একটি ছবি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, যেখানে তাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিকৃত ও আপত্তিকর পোস্টার হাতে নিয়ে প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ ওঠে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে হওয়া ওই আন্দোলন এবং পোস্টার বিতর্ক সামনে আসার পরেই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। ছবিটির সত্যতা ও এর নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠার পাশাপাশি অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক থানায় সরকারিভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তীব্র আইনি জট ও সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে সামাজিক মাধ্যমে মুখ খুললেন এবং নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর সাফাই পেশ করলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।

ঘটনার সূত্রপাত কলকাতায় আয়োজিত একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিবাদের মঞ্চ থেকে। শহরের রাজপথে চলা ওই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে টলিউডের বহু পরিচিত মুখের পাশাপাশি শ্রীলেখা মিত্রেরও উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা ও পদ্ধতি ছাপিয়ে হঠাৎ করেই একটি নির্দিষ্ট ছবি ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে দেখা যায় যে অভিনেত্রীর হাতে একটি ব্যানার বা পোস্টার রয়েছে যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীকে অবমাননা করার উদ্দেশ্যে তৈরি এবং বিকৃত করা হয়েছে। ছবিটির স্ক্রিনশট মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের একাংশের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন অভিনেত্রী। বিরোধীরা তো বটেই, সাধারণ মানুষের অনেকাংশও এই ধরনের আচরণের সমালোচনা করেন। পরিস্থিতি এতটাই গম্ভীর হয়ে ওঠে যে, ছবিটির জেরে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক থানায় এফআইআর দায়ের করা হয় এবং পুলিশি নোটিশ ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে শুরু করে।

আইনি ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা এবং চতুর্দিকে সমালোচনার ঝড় জোরালো হতেই নিজের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লাইভে এসে বা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সমস্ত অভিযোগের সরাসরি জবাব দেন শ্রীলেখা। নিজের সাফাই দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন যে, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিতর্কে জড়ানো হয়েছে এবং গোটা বিষয়টি একটি গভীর ষড়যন্ত্র। অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যে প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন, সেখানে তাঁর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড বা পোস্টারটি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। তাঁর দাবি, কেউ বা কারা অত্যন্ত সুকৌশলে ডিজিটাল কারসাজি করে বা ভুল কোণ থেকে ছবি তুলে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই জালিয়াতি করেছে। প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করার বা বিকৃত পোস্টার হাতে নেওয়ার কোনো রকম অভিপ্রায় বা সম্পৃক্ততা তাঁর ছিল না বলেই তিনি দাবি করেছেন।

তা সত্ত্বেও এই ঘটনায় জনমানসে ও আইনি মহলে বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যে থানাগুলিতে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, সেখানে আইনি নিয়ম অনুযায়ী তদন্তের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। অন্যদিকে, অভিনেত্রীর এই আকস্মিক সাফাই কতদূর বিশ্বাসযোগ্যতা পাবে এবং আইনি জট থেকে তিনি আদৌ মুক্তি পাবেন কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই টালিউড থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন মামলার মুখোমুখি হওয়ার ভয়, অন্যদিকে তেমনই সামাজিক মাধ্যমে অনুরাগীদের একাংশের সমর্থন ও বিরোধীদের কটাক্ষ—সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে চরম অস্বস্তিকর এক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।