৩৬ দিনের ঐতিহাসিক আন্দোলনের সমাপ্তি! এবার কি ভোটের ময়দানে লড়বে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’?

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর অবশেষে অবসান ঘটেছে সাড়া জাগানো ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (CJP) বা ককরোচ জনতা পার্টির ৩৬ দিনব্যাপী ঐতিহাসিক প্রতিবাদের। আন্দোলন সফলভাবে সমাপ্ত হলেও, এই সংগঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে তীব্র জল্পনা। সবার মনেই এখন একট ুই প্রশ্ন— CJP কি তবে এবার সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করবে, নাকি তাদের এই নাগরিক আন্দোলন অন্য কোনো রূপ নেবে?

আন্দোলনের সমাপ্তি নয়, শুরু মাত্র!

শনিবার দেশব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর CJP-র নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ তাঁদের কাছে কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, বরং এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের সূচনা মাত্র।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (যিনি বর্তমানে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন) একটি বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশের সমস্ত তরুণ প্রজন্মকে এই ঐতিহাসিক জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও নানা দুর্নীতির জেরে অতীতে আত্মঘাতী হওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলির জন্য যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং গত ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ মিছিলে সংঘটিত হিংসার ঘটনায় যুক্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

রাজনীতিতে নামার গুঞ্জন নিয়ে কী বলছে CJP?

CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করা তাঁদের প্রাথমিক কোনো অগ্রাধিকার নয়। তাঁর কথায়, “দেশে তো সাতশো-আঠশোটি রাজনৈতিক দল রয়েছে, কিন্তু তাদের কেউই যুবকদের প্রকৃত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না। আমরা এই আন্দোলনকে তৃণমূল স্তরে নিয়ে যেতে চাই, যাতে দল নির্বিশেষে সবাই যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের দাবি মানতে বাধ্য হয়।”

তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল গঠন করা নিয়ে সম্পূর্ণ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি CJP নেত্রী রাঙ্কা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, “আমার এই সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক জীবনে আমি একটিই জিনিস শিখেছি—কখনও ‘না’ বলতে নেই।” তবে তিনি বারবার জোড় দিয়ে বলেছেন যে, এই মুহূর্তে তাঁদের একমাত্র এবং প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক ও স্থায়ী সংস্কার করা। যতদিন না শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসছে, ততদিন সরকারের ওপর তাঁদের এই লাগাতার আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে বলেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে CJP।