“টাকা মেটানোর নিয়মে বড় স্বস্তি!”-পঞ্চায়েতের কোন নতুন নিয়মে কুপোকাৎ দুর্নীতি? জানুন সবটা

পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ রাজনীতি এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে এক বিরাট ও যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়ে গেল বহুলচর্চিত পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল। এই নতুন বিল আসার ফলে একদিকে যেমন বহু ক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানদের একক ক্ষমতা অনেকটাই খর্ব করা হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে খেটে খাওয়া সাধারণ শ্রমিকদের পাওনা টাকা মেটানোর ক্ষেত্রে মিলছে বড়সড় স্বস্তি। এই নতুন বিলের জেরে কার ক্ষমতা কমল আর কার পদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও তরজা।
নতুন পঞ্চায়েত সংশোধনী বিলে কী রয়েছে?
এতদিন পর্যন্ত গ্রামের যেকোনো ছোট-বড় উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজ করা সাধারণ শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বা মজুরি সরাসরি মেটানোর ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত প্রধানের সই বা স্বাক্ষরের কড়া বাধ্যবাধকতা ছিল। বহু ক্ষেত্রেই প্রধানের সই বা অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রিতায় মাসের পর মাস আটকে থাকত গরিব শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো পাওনা টাকা। কিন্তু নতুন সংশোধনী বিলে সেই প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছে। শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে এবং গ্রামীণ উন্নয়নের কাজকে আরও গতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে এই নিয়মে এই বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য।
পাশাপাশি, এই সংশোধনী বিলে পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতির ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, টানা ১৫ দিন পঞ্চায়েতে অনুপস্থিত থাকলেই সংশ্লিষ্ট নেতার ক্ষমতা বা পদ খারিজ করার মতো কঠোর পদক্ষেপের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে এই বিলে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও দিলীপ ঘোষের তোপ
প্রধান ও উপপ্রধানদের ক্ষমতা কমিয়ে রাজ্য সরকারের এই বিল আনার নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। এই সংশোধনী বিল এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, গ্রামীণ স্তরে সাধারণ মানুষের উন্নয়নের আড়ালে নিজেদের ক্ষমতা ও দুর্নীতি কুক্ষিগত করে রাখার রাস্তা পরিষ্কার করতেই এই ধরনের বিল আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, শাসক শিবিরের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, গ্রামীণ উন্নয়নকে গতিশীল করতে এবং সাধারণ মানুষের কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতেই এই সংশোধনী আনা অত্যন্ত জরুরি ছিল। প্রধানদের একক ক্ষমতার ওপর কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ এনে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোই এই বিলের মূল লক্ষ্য। পঞ্চায়েত স্তরের ক্ষমতার এই রদবদল আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।