রাতের অন্ধকারে বাড়ি বাড়ি ঢিল ছোড়ার প্রতিবাদ! হাওড়ায় দিনেদুপুরে যুবককে প্রকাশ্যে ছুরি মেরে খুন, থমথমে এলাকা

হাওড়ার বাঁকড়া এলাকায় রাতের বেলা বাড়ি বাড়ি ঢিল ছোড়ার প্রতিবাদ করার মতো একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল এক নৃশংস ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। প্রকাশ্য রাজপথে এক যুবককে নির্মমভাবে ছুরি মেরে খুনের অভিযোগ উঠল এলাকারই এক কুখ্যাত যুবকের বিরুদ্ধে। এই প্রাণঘাতী হামলায় নিহত যুবকের অপর দুই ভাইও গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এই পৈশাচিক ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত গুড্ডু শেখকে গ্রেফতার করেছে এবং তার কাছ থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হাওড়ার বাঁকড়ার রসিকল এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত গুড্ডু শেখ দীর্ঘদিন ধরেই রাতের গভীরে স্থানীয় মানুষের শান্তি বিঘ্নিত করত এবং বিনা কারণে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইট-পাথর ও ঢিল ছুড়ত। প্রতিদিনের এই উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী গতকাল রাতে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন। কিন্তু অপরাধবোধে লজ্জিত হওয়ার পরিবর্তে অভিযুক্ত উল্টে স্থানীয় বাসিন্দাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রকাশ্যেই সকলকে ছুরি মেরে খতম করার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। প্রাথমিক এই বচসার রেশ কাটতে না কাটতেই পরের দিন সকালে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হিংসাত্মক রূপ নেয়।
পরের দিন সকালে অভিযুক্ত গুড্ডু শেখ সম্পূর্ণ পরিকল্পনা মাফিক ধারালো ছুরি হাতে প্রকাশ্য রাস্তায় বেরিয়ে আসে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এলাকার বাসিন্দা হাসান মির নামের এক যুবকের পেটে মারাত্মকভাবে ছুরি চালানো হয়, যার ফলে তিনি রক্তে ভেসে গিয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। ভাইকে বাঁচানোর জন্য যখন তাঁর দুই ভাই এগিয়ে আসেন, তখন উন্মত্ত অভিযুক্ত তাঁদের ওপরও চড়াও হয় এবং হাত ও মুখে এলোপাথাড়ি ছুরি চালিয়ে গুরুতর জখম করে। দিনের আলোয় এই নগ্ন তাণ্ডব দেখে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ছুটে আসেন এবং অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে অভিযুক্ত গুড্ডুকে পিছন থেকে জাপটে ধরে ফেলে বেধড়ক মারধর করেন।
খবর পাওয়া মাত্রই বাঁকড়া ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে অবিলম্বে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা হাসান মিরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর জখম হওয়া তাঁর দুই ভাই বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। ধৃত গুড্ডু শেখের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে এই নৃশংস কাণ্ডের পেছনে অভিযুক্তের কোনো মানসিক সমস্যা রয়েছে কি না কিংবা এর নেপথ্যে অন্য কোনো পূর্ব শত্রুতা লুকিয়ে আছে কি না।