ফ্রান্সে শিক্ষার বেহাল দশা: শিক্ষক সংকটের জেরে ফুঁসছে পড়ুয়ারা, বিশ্বজুড়ে তীব্র হচ্ছে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত বিতর্ক!

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশার প্রতিবাদে গত তিন সপ্তাহ ধরে তীব্র আন্দোলন চলছে। স্কুলগুলিতে অপর্যাপ্ত তহবিল, চরম শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত ছাত্রভর্তি এবং পরিকাঠামোগত ঘাটতির মতো মারাত্মক সমস্যাগুলির প্রতিবাদে রাস্তা নেমেছেন ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক সমাজ। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে এই ব্যবস্থার উন্নতি না হলে আগামী দিনে তরুণ প্রজন্মের পঠনপাঠন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। আর এই আন্দোলনই বর্তমানে বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার এক পুরনো ও জ্বলন্ত প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে—একজন শিক্ষকের দায়িত্বে ঠিক কতজন পড়ুয়া থাকা উচিত?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালে এই ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে আকাশ-পাতাল তফাৎ দেখা যায়। ওইসিডি (OECD)-র সাম্প্রতিক ‘এডুকেশন অ্যাট আ গ্ল্যান্স’ রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রাথমিক স্তরে প্রতি ১৫ জন ছাত্রের জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন। অন্যদিকে, চিনে প্রাইমারিতে ১৬ জন এবং লোয়ার সেকেন্ডারিতে ১৩-১৪ জনের অনুপাতে একজন শিক্ষক উপলব্ধ। রাশিয়াতেও এই অনুপাত প্রায় ১৯:১। কিন্তু বিশাল জনসংখ্যার দেশ ভারতে এই চিত্রটি সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমানে ভারতের বিশাল শিক্ষা ব্যবস্থার ১৪.৭১ লক্ষ স্কুলে প্রায় ১.০১ কোটির বেশি শিক্ষক রয়েছেন, যাঁদের অধীনে পড়াশোনা করছে প্রায় ২৪.৬৯ কোটি ছাত্রছাত্রী। জাতীয় গড় হিসেবে ভারতে প্রতি ২৪ জন ছাত্রের বিপরীতে মাত্র ১ জন শিক্ষক রয়েছেন, যা ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গেই প্রায় সমান।
ফ্রান্সের চলমান এই বিক্ষোভে কেবল কম ফান্ডিং বা শিক্ষকের অনুপস্থিতিই নয়, বরং জীর্ণ স্কুল ভবন এবং তীব্র গরমে পানীয় জলের অভাবের মতো মৌলিক সুবিধার ঘাটতিও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করায় শিক্ষক ইউনিয়ন ও অভিভাবকরাও সরাসরি রাস্তায় নেমেছেন। এর ওপর সরকারের বাজেটে বড় ধরনের কমানোর পরিকল্পনা আগুনে ঘি ঢালার কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত শিক্ষা শুধু ছাত্র-শিক্ষক সংখ্যার অনুপাতে মাপা যায় না, এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকাঠামো ও কার্যকর বাজেট বরাদ্দ।