“সাহস থাকলে তুলে দেখান!” মাটিতে শুয়ে প্রিয়াঙ্কা, চ্যাংদোলা করে রাহুলকে তুলল পুলিশ—দিল্লিতে চরম তুলকালাম

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল দেশের রাজধানী। বুধবার দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই যন্তরমন্তরের চত্বরে চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাস থেকে নেমে সোজা যন্তরমন্তরের দিকে এগোতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় এবং তাতেই শুরু হয় তীব্র ধস্তাধস্তি। মাটিতে শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ জানান কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, আর তাঁকে রক্ষা করতে ঢাল হয়ে দাঁড়ান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে জোরপূর্বক আটক করে পুলিশ।

মঙ্গলবার আকাশবাণী ভবনে টানা ৯ ঘণ্টা ধর্না দেওয়ার পর, বুধবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন I.N.D.I.A জোটের সাংসদরা। এরপর সেখান থেকেই হঠাৎ যন্তরমন্তরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বিরোধী শিবির। খবরাখবর পেয়েই তৎপর হয়ে ওঠে দিল্লি পুলিশ। হোটেল থেকে বেরনোর পথেই তাদের বাস আটকে দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা যাতে এগোতে না পারেন, তার জন্য ব্যারিকেড ও বিপুল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, পুলিশি বাধা এড়াতে কংগ্রেস কর্মীরা আটকানোর আশঙ্কায় বাসগুলির টায়ার পর্যন্ত ফুটো করে দেন।

নিষেধাজ্ঞা ও ১৬৩ ধারার তোয়াক্কা না করে একসময় বাস থেকে নেমে পড়েন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কারা। ভিড় ঠেলে যন্তরমন্তরের দিকে এগোতে গেলেই পুলিশের সঙ্গে তাদের তীব্র বচসা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। রাস্তায় বসে পড়ে প্রতিবাদ জানান প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। পুলিশ তাঁকে তুলতে গেলে বাধা দেন রাহুল। একপর্যায়ে রাহুল পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, “সাহস থাকলে আমাদের তুলে দেখান!”

পরিস্থিতি চরমে পৌঁছলে পুলিশ জোর করে রাহুল গান্ধীকে চ্যাংদোলা করে বাসে তোলে। ঘটনাস্থলেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচিত সাংসদদের সঙ্গে এই ধরনের অগণতান্ত্রিক আচরণ করা হচ্ছে। যতক্ষণ না ন্যায়বিচার পাচ্ছি, আমি এখান থেকে নড়ব না।” পরে একে একে ডেরেক ও’ব্রায়েন সহ অন্যান্য বিরোধী নেতাদেরও আটক করা হয়। বিরোধীদের এই মেগা বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষণ ধরে তীব্র যানজট ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।