“সবাই বলেছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করছি!” কর্পোরেট জীবনকে না বলে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার রোমহর্ষক কাহিনী!

নিরাপদ চাকরি নাকি নিজের ব্যবসা—কোন পথটি বেছে নেওয়া উচিত? যুগ যুগ ধরে চলা এই চিরন্তন বিতর্কে নতুন করে আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি চোখ কপালে তোলার মতো পোস্ট। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক যুবকের এমন এক সাফল্যের গল্প ভাইরাল হয়েছে, যা শুনলে যেকোনো তরুণ নতুন করে ভাবতে বাধ্য হবেন। ভাইরাল হওয়া সেই পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, এক তরুণ কলেজ ক্যাম্পাসে স্বনামধন্য তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএস (TCS)-এর লোভনীয় চাকরির সুযোগ সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা তখন তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনা করে বলেছিলেন যে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করতে চলেছেন। কিন্তু সেই সমস্ত আশঙ্কার মুখে ছাই দিয়ে ওই যুবক প্রচলিত কর্পোরেট বা ৯ থেকে ৫ টার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে চালের ব্যবসা শুরু করার দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে তাঁর সেই ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় শুনলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে—পোস্ট অনুযায়ী, তাঁর বর্তমান বার্ষিক আয় প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডলে এই চাঞ্চল্যকর ও অনুপ্রেরণামূলক তথ্যটি শেয়ার করেছেন অঙ্কিত পাণ্ডে নামের এক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী। পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে এই পুরো ঘটনার কেন্দ্রে যিনি রয়েছেন, তিনি অঙ্কিতেরই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে এই পোস্টে উল্লেখিত আর্থিক হিসাব বা ব্যবসার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানগুলি স্বাধীনভাবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র দ্বারা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তা সত্ত্বেও এই গল্পটি নেটদুনিয়ায় ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া সেই ব্যবসায়িক মডেল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ওই যুবক কর্পোরেট অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেম্বারে বসে চাকরি না করে সরাসরি বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকার কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। তিনি মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের সম্পূর্ণ এড়িয়ে বিভিন্ন রাজ্য ও গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি সেরা মানের চাল সংগ্রহ করা শুরু করেন। এরপর সেই চাল নিজের তত্ত্বাবধানে নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করা, সুদৃশ্য প্যাকেজিং করা এবং সঠিক উপায়ে পরিবহণের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ করার কাজ শুরু করেন। পোস্টে দেওয়া আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, ওই যুবক কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি চাল মাত্র ৩৫ টাকা মূল্যে ক্রয় করেন। এর সঙ্গে পরিষ্কার করা, উন্নতমানের প্যাকেজিং এবং সুদূর পরিবহণ খরচ বাবদ প্রতি কেজিতে আরও ৫ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে প্রতি কেজি চালের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের মোট খরচ এসে দাঁড়ায় ৪০ টাকায়। এরপর নিজের প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের নামে সেই চাল স্থানীয় খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে খুচরো বিক্রেতারা সেই প্যাকেটজাত চাল সাধারণ গ্রাহকদের কাছে ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি করেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রতি কেজি চালে তাঁর প্রায় ১০ টাকা করে সুনির্দিষ্ট লাভ থাকে। প্রথম নজরে প্রতি কেজির লাভ সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু ব্যবসার পরিসর বিশাল হওয়ায় এবং পাইকারি পরিমাণে তা বিক্রি হওয়ায় লাভের মোট অঙ্ক দ্রুত আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে।