নিট বিতর্কের আগুনে নতুন মোড়! শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর মোদির ভরসা কোন অভিজ্ঞ নেতার ওপর?

দেশজুড়ে তর্জনগর্জন ও ঐতিহাসিক নিট (NEET) পরীক্ষা কেলেঙ্কারি ঘিরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন বিতর্ক, লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মারাত্মক অভিযোগ এবং তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাটকীয় ইস্তফার পর এবার দেশের শিক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ নেতৃত্বে এল বড় ধরনের রদবদল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এবার শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো অভিজ্ঞ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর হাতে। প্রশাসনিক মহলের সুনির্দিষ্ট অভিমত অনুযায়ী, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর ক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের ভেঙে পড়া আস্থা দ্রুত ফিরিয়ে আনাই এখন নতুন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সবথেকে বড় ও কঠিন চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স, ফুড অ্যান্ড পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন মন্ত্রক এবং রিনিউয়েবল এনার্জি মন্ত্রকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এর পাশাপাশি এবার তাঁর কাঁধেই শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করার ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে যে, দেশের বর্তমান গভীর সংকটের মুহূর্তে অভিজ্ঞ, পোড়খাওয়া এবং পরীক্ষিত নেতৃত্বের ওপরই অন্ধের মতো ভরসা রাখছে কেন্দ্র সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দীর্ঘ পর্যালোচনা বলছে যে, অসাধারণ সংসদীয় কৌশল এবং নিখুঁত প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য প্রহ্লাদ যোশী দীর্ঘদিন ধরেই শাসকদল বিজেপির অন্যতম বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য মুখ হিসেবে পরিচিত। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত সফলভাবে তিনি পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স বা সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদের অন্দরে বিরোধীদের সঙ্গে জটিল আলোচনা সামলানো, বিভিন্ন বিতর্ক সুচারুভাবে পরিচালনা করা এবং যেকোনো রাজনৈতিক সংকট নিপুণ হাতে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে তাঁর সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা শিক্ষা মন্ত্রকের এই নতুন এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা পালন করবে বলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।
শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার সঙ্গেই তাঁকে একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়ের মোকাবিলা করতে হবে। প্রথমত, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র গোটা পরীক্ষাপদ্ধতির কাঠামোগত সংস্কার সাধন। সাম্প্রতিক একের পর এক বিতর্কের ফলে দেশের সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলির স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর মনে তীব্র প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। তাই পরীক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিমুক্ত ও নির্ভরযোগ্য করতে দ্রুত কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষার প্রচলন বাড়ানো এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া হাতে নিশ্চিত করার এক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা খুব শীঘ্রই সামনে আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, দেশের কোটি কোটি ছাত্র-ছাত্রী এবং উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের মনে জমে থাকা গভীর অনাস্থা ও ক্ষোভ দূর করা নতুন মন্ত্রীর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষার্থী ও শিক্ষা মহলের সঙ্গে একটি স্বচ্ছ যোগাযোগ সেতু তৈরি করে জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা সংস্কারের কাজও থামিয়ে রাখার কোনো অবকাশ নেই। জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) সফলভাবে রূপায়ণ, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার পরিধি বাড়ানোই তাঁর মূল লক্ষ্য।