কার্গিল শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে হুঙ্কার মোদির! আত্মনির্ভর ভারত এবার বিশ্বমঞ্চে ডিফেন্স সুপার পাওয়ার!

কার্গিল যুদ্ধের বীর শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে রবিবারের ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী বার্তা দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৯৯৯ সালের সেই কার্গিল যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী স্মৃতি এবং প্রতিকূল পাহাড়ি আবহাওয়ায় ভারতীয় সেনার অদম্য সাহসিকতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন যে, জওয়ানদের সেই রক্ত ও আত্মত্যাগই আজকের শক্তিশালী ভারতের মূল ভিত্তি। কার্গিলের সেই বীর শহিদদের স্মরণ করার পরই প্রধানমন্ত্রী এক ঝটকায় বর্তমান ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত সাফল্যের এক বিরাট সাফল্যের খতিয়ান দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তাঁর সাফ দাবি, ভারত আজ কেবল নিজেদের সীমানা সুরক্ষা করতেই ব্যস্ত নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে একটি অত্যন্ত ভরসাযোগ্য ও শক্তিশালী অংশীদার (Trusted Global Defence Partner) হিসেবে দ্রুত বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছে।

বর্তমান ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং অস্ত্র রফতানির গ্রাফ যে বিগত কয়েক বছরে অভূতপূর্বভাবে উর্ধ্বমুখী হয়েছে, তা জোরালো কণ্ঠে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান যে, দেশের মাটিতে তৈরি অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম আজ গ্লোবাল ডিফেন্স মার্কেটে প্রবল চাহিদার সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি তাঁর ইন্দোনেশিয়া সফরের প্রসঙ্গ টেনে মোদি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, সেই সফরেই ব্রহ্মোস (Brahmos) এবং অস্ত্র (Astra) ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই ধরনের বড়সড় প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতীয় অস্ত্রের ওপর বিশ্বের অন্যান্য পরাশক্তি দেশের আস্থা ও নির্ভরতা দিন দিন কতটা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই ভাষণে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO)-এর সাম্প্রতিক অসাধারণ সাফল্যগুলিরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দেশবাসীকে জানান যে, চলতি মাসেই অত্যন্ত সফলভাবে পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেট (Pinaka Long Range Guided Rocket)-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আর ঠিক তার কয়েক দিনের মধ্যেই অত্যাধুনিক ‘কুশা’ (Kusha) ক্ষেপণাস্ত্রেরও পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। মোদির দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, ডিআরডিও-র এই প্রতিটি যুগান্তকারী সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দেশের অদম্য বিজ্ঞানী, গবেষক এবং তরুণ ইঞ্জিনিয়ারদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধা, যা আজ ভারতকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

প্রতিরক্ষার গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারতের মহাকাশ গবেষণা এবং বিজ্ঞানচর্চার সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্রটিও অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। গত রবিবার ‘বিক্রম-১’ (Vikram-1) রকেটের ঐতিহাসিক ও সফল উৎক্ষেপণকে তিনি ভারতের স্পেস অভিযানের ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায় বলে অভিহিত করেন। এটিই ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি রকেট, যা দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের মেধার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। মোদির মতে, মহাকাশ গবেষণার মতো উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ আগামী দিনে ভারতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত মেরুদণ্ডকে আরও অনেক বেশি মজবুত করবে।