খেলনা ধরার বয়সে ৯ কোটি টাকার লড়াই! বিরল রোগে আক্রান্ত ছোট্ট অর্কজিতকে বাঁচাতে আকুল আবেদন পরিবারের!

খেলার বয়সে হাসপাতালের বিছানায় সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছোট্ট অর্কজিত। তার বয়স মাত্র দু’বছর সাত মাস। এই কচি বয়সে যখন তার সারা বাড়ি ছুটে বেড়ানোর কথা, ঠিক তখনই তার দু’টি পা ক্রমশ অসার হয়ে আসছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের ডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের হাতিয়াপাড়ার বাসিন্দা এক অত্যন্ত সাধারণ কাঠমিস্ত্রি বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও পায়েল মণ্ডলের একমাত্র সন্তান অর্কজিত আজ একটি অত্যন্ত বিরল এবং মারাত্মক ব্যাধি ‘স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি টাইপ-২’ (SMA Type-2) রোগে আক্রান্ত। ছেলেকে সুস্থ করে তোলার জন্য প্রয়োজন বিদেশ থেকে আমদানি করা আকাশছোঁয়া মূল্যের ৯ কোটি টাকার একটি জীবনদায়ী ইঞ্জেকশন! কিন্তু এত বিশাল পরিমাণ টাকা কোথায় মিলবে? ছেলেকে জীবনের মূল স্রোতে কোন পথে ফিরিয়ে আনবেন, তা ভেবেই দিশাহারা হয়ে পড়েছেন গরিব মা-বাবা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে জন্ম হয় অর্কজিতের। প্রথমদিকে সব স্বাভাবিক থাকলেও, চলতি বছরের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে ছবিটা বদলাতে শুরু করে। হাঁটতে গিয়ে বারবার পড়ে যাওয়া এবং সামান্যতেই অতিরিক্ত হাঁপিয়ে ওঠার মতো লক্ষণগুলির কারণে ছেলের শারীরিক অস্বাভাবিকতা নিয়ে গভীর চিন্তা বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্যদের। এই সমস্ত জটিল উপসর্গ দেখে প্রথমে বালুরঘাট, তারপর মালদহ এবং পরবর্তীতে কলকাতাতেও ছোটেন তাঁরা। কিন্তু দীর্ঘ দৌড়ঝাঁপের পরেও সঠিক রোগ অধরাই থেকে যায়। অবশেষে গত ফেব্রুয়ারিতে চেন্নাইয়ের একটি বিশেষ হাসপাতালে গিয়ে ধরা পড়ে এই প্রাণঘাতী রোগ। চিকিৎসকরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, একমাত্র ওই মহার্ঘ ইঞ্জেকশনই পারে শিশুর স্বাভাবিক শৈশব ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু নুন আনতে পান্তা ফুরোনো এক কাঠমিস্ত্রির পক্ষে ৯ কোটি টাকার এই বিশাল অঙ্ক জোগাড় করা যে অসম্ভব, তা বলাই বাহুল্য।
তবে এই গভীর অন্ধকারের মাঝেও আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন বালুরঘাটবাসী। ছোট্ট অর্কজিতকে যে কোনো মূল্যে বাঁচাতে এবার সরাসরি রাস্তায় নেমেছেন শহরের তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরালো প্রচার চালানোর পাশাপাশি দানবাক্স হাতে শহরের মোড়েমোড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিভিন্ন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও নৃত্য সংস্থাও। রাজপথে স্ট্রিট ড্যান্স বা পথনৃত্য প্রদর্শন করেও অর্থ সংগ্রহ করছেন উদীয়মান শিল্পীরা। ইতিমধ্যেই এক সহৃদয় ব্যবসায়ী এগিয়ে এসে ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন শোকস্তব্ধ পরিবারের হাতে। কিন্তু ৯ কোটির সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যমাত্রা এখনও বহু দূর। তাই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এবার রাজ্য ও কেন্দ্রের সরকারের তরফ থেকেও জরুরি সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন অসহায় বাবা-মা।