উত্তমের মরদেহের সামনে কেন যাননি সুপ্রিয়া? ৪৬ বছর পর মহানায়কের নাতনির বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় টালিগঞ্জ!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমারকে নিয়ে বিতর্ক যেন থামার নামই নেয় না। কিংবদন্তি এই অভিনেতার প্রয়াণের ৪৬ বছর পর তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। উত্তম কুমারের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে খোদ অভিনেতার নাতনি নবমিতার একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার টলিউডের অন্দরে ফের উসকে দিয়েছে পুরনো সব বিতর্ক। মহানায়কের স্ত্রী গৌরীদেবীকে ছেড়ে সুপ্রিয়াদেবীর সঙ্গে ঘর বাঁধা এবং পরবর্তী সময়ে উত্তম কুমারের শেষকৃত্যের দিন সুপ্রিয়া দেবীর অনুপস্থিতি নিয়ে নাতনির করা বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরেই এখন সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে আপামর বাঙালি cine-প্রেমীদের মন।
উত্তম কুমার ও সুপ্রিয়া দেবীর প্রেমকাহিনি বরাবরই রূপকথার মতো মনে হলেও এর নেপথ্যের সামাজিক ও পারিবারিক জটিলতা কম ছিল না। খুব কম বয়সেই মহানায়কের প্রেমে পড়েছিলেন সুপ্রিয়া দেবী। সুপ্রিয়ার ভাইয়ের বন্ধু সুত্রে উত্তমের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হলেও তা যে পরবর্তীতে গভীর সম্পর্কে রূপ নেবে, তা তাঁরাও হয়তো কল্পনা করেননি। তাঁদের সম্পর্কের এই বাঁক বদল ঘটেছিল কালজয়ী ‘বসু পরিবার’ ছবির শুটিংয়ের সময়। সেই সময়ে উত্তম কুমার বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী গৌরী দেবী ও সন্তানকে নিয়ে সংসার ছিল। কিন্তু পারিবারিক গণ্ডি পেরিয়ে মহানায়কের মন ভিড়েছিল সুপ্রিয়ার সান্নিধ্যে। পরবর্তীতে তাঁরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করলেও উত্তমের অকালপ্রয়াণের দিন তাঁর মরদেহের সামনে সুপ্রিয়া দেবীর দেরিতে পৌঁছানো বা না যাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের কৌতূহল ও প্রশ্নচিহ্ন ছিল। আর ঠিক এই ইস্যুতেই নাতনি নবমিতার নতুন মন্তব্য আগুনে ঘি ঢেলেছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উত্তম নাতনি নবমিতা দাবি করেন যে, দাদুর মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ যখন গিরিশ মুখার্জি রোডের পৈতৃক বাড়িতে আনা হয়, তখন সেখানে পরিবারের সকলেই উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, সেই সময় উত্তম পত্নী গৌরী দেবী দারুণভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। গৌরী দেবী মনে করতেন, সুপ্রিয়া দেবী যখন উত্তম কুমারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, তখন তাঁর উচিত ছিল মহানায়কের শরীরের সঠিক যত্ন নেওয়া এবং তাঁকে আগলে রাখা। নবমিতার বিস্ফোরক দাবি অনুযায়ী, স্বামীর আকস্মিক প্রয়াণে ক্ষুব্ধ ও শোকাহত গৌরী দেবী সেই মুহূর্তে সুপ্রিয়া দেবীকে মরদেহের সামনে দেখতে চাননি। নবমিতার জবানিতে, গৌরী দেবীর মনের অবস্থা সেই মুহূর্তে এমন ছিল যে— “আমি তো তাঁকে ধরে রাখতে পারিনি, তবে তোর ওপর দায়িত্ব দিয়েছিলাম, তুই কেন তবে তাঁর খেয়াল রাখলি না?” পরিস্থিতি জটিল বুঝে সুপ্রিয়া দেবীও সেই সময় আর বিতর্ক বাড়াতে চাননি এবং দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।
নাতনির এই সাক্ষাৎকার এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য দাবানলের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। আর এর পরেই সুপ্রিয়া দেবী ও উত্তম কুমারের কন্যা সোমা মুখোপাধ্যায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ খুলতে বাধ্য হন। মায়ের সম্মান রক্ষার্থে এবং সঠিক সত্য সকলের সামনে আনতে সোমা এক সাক্ষাৎকারে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন, “ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখলাম এবং খবর পড়লাম যেখানে উত্তম কুমারের এক আত্মীয় দাবি করেছেন যে আমার মা সুপ্রিয়া দেবীকে সেদিন গিরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এই সম্পূর্ণ তথ্যে আমার তীব্র আপত্তি এবং ঘোরতর প্রতিবাদ রয়েছে। কারণ, সেদিন মায়ের পাশেই ছিলাম আমি।” আসল সত্যিটা তুলে ধরে সোমা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সুপ্রিয়া দেবীকে সেদিন কেউ আটকায়নি বা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে বারণ করেনি, বরং মা সুপ্রিয়া দেবী নিজে থেকেই স্বেচ্ছায় সেদিন ওই বাড়িতে যাননি। মহানায়কের প্রয়াণলগ্নের এই দুই বিপরীতমুখী বয়ান ও বিতর্ক এখন বাংলা বিনোদন দুনিয়ায় এক নতুন আলোচনার ঝড় তুলেছে।