‘মিছিলে অশান্তি পাকানোদের কাউকে রেয়াত করা হবে না!’ কড়া হুঁশিয়ারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের

শুক্রবার NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের নামে বামফ্রন্টের মিছিলে ঘটে যাওয়া চরম বিশৃঙ্খলা ও হিংসার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার। শনিবার বিধানসভায় এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, গতকালের মিছিলে যারা অশান্তি ও তাণ্ডব চালিয়েছে, তাদের কাউকেই একচুলও রেয়াত করা হবে না।

বামেদের মিছিল ও নেতৃত্বহীনতার অভিযোগ

ঘটনার বিবরণ দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “শুক্রবার বামেদের ডাকা মিছিলে যাঁরা প্রথম থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তাঁরা কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারেননি। ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই অশান্তি শুরু হয়ে যায়। যাঁরা শিয়ালদা থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তাঁরা আর মিছিলের রাশ ধরে রাখতে পারেননি।”

সাংবাদিকদের উপর হামলা ও মহিলা নিগ্রহের তীব্র নিন্দা

বিক্ষোভের নামে সংবাদমাধ্যমের ওপর চালানো হামলার তীব্র সমালোচনা করে সুকান্ত বলেন, মিছিলে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়েছে। তাঁদের নিগ্রহ করা হয়েছে, এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে জলের বোতল ও জুতো ছোড়া হয়েছে। মহিলা সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক নিগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি জানান, গতকালই এক নিগৃহীত মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। ওই সাংবাদিক জানিয়েছেন, সেখানে উপস্থিত কিছু সাধারণ সাহসী মহিলার জন্যই বড় ধরনের বিপদ ও শ্লীলতাহানির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। এমনকি মহিলা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিও করা হয় বলে অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

‘ওরা কেউ ছাত্র নয়, গুন্ডা দমন আইনে শাস্তি’

বিক্ষোভকারীদের আসল পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুকান্ত মজুমদার গ্যারান্টি দিয়ে বলেন, “গতকাল যারা এই কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা কেউ ছাত্র নয়। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, নিট পরীক্ষা দিতে গেলে যে ন্যূনতম যোগ্যতা লাগে, তার ধারেকাছেও এরা নেই।” মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন করে তিনি বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যান্য রাজনৈতিক মন্তব্য ও বিধানসভার প্রতিক্রিয়া

এই সাক্ষাৎকারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান সুকান্ত মজুমদার। অন্যদিকে, ধর্মতলায় ছাত্র বিক্ষোভের সময় সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, শুক্রবারের ওই বামেদের বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় তীব্র ধস্তাধস্তি, ইট-চটিাবৃষ্টি ও পুলিশের লাঠিচার্জে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় চত্বর। এই ঘটনায় কলকাতার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।