‘ইস্তফা ছাড়া এক চুলও নড়ছি না!’ কেন্দ্র-CJP ম্যারাথন বৈঠকে কোন বড় আপডেট এল সামনে?

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে এক চুলও পিছু হটছে না ‘কক রোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা তীব্র পড়ুয়া আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী এই সংগঠনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার বৈঠকেও তাদের এই কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সিজেপি সূত্রে খবর, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মতো সংবেদনশীল ও জোরালো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আগামী শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে কেন্দ্র।
দ্বিতীয় দফার বৈঠকে কী কী আলোচনা হলো?
দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত ম্যারাথন এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আෂুতোষ রাঙ্কা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে সরকার:
আর্থিক ক্ষতিপূরণ: NEET পরীক্ষায় যে সমস্ত পরীক্ষার্থীরা মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
মামলা প্রত্যাহার: আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে যে সমস্ত এফআইআর ও আইনি মামলা দায়ের করা হয়েছে, সেগুলি নিঃশর্তে তুলে নেওয়া হবে।
তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রধান ও স্পর্শকাতর দাবিটির বিষয়ে আগামী শনিবার বিকেলের মধ্যে কেন্দ্র তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বলে সিজেপি নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন। এই পুরো আলোচনাকে আরও ফলপ্রসূ করতে আগামী শনিবার তৃতীয় দফায় ফের সিজেপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের কথা রয়েছে।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ও রাজনীতির পারদ
দেশজুড়ে চলা এই তীব্র আন্দোলন প্রশমিত করতে এবং তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ শান্ত করতে বর্তমানে একাধিক জরুরি পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জোরালো বার্তার পর, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির সংস্থান রেখে একটি নতুন বিলের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
এখন আগামী শনিবারের তৃতীয় দফার বৈঠকে কেন্দ্র ঠিক কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় এবং CJP তাদের পূর্বঘোষিত অনড় অবস্থান থেকে সরে আসে কি না, সেদিকেই এখন গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।