ছিলে যাওয়া মুখে বরফের ছোঁয়া কি অভিশাপ ডেকে আনছে? জেনে নিন মাড়ির ঘায়ে বরফ ব্যবহারের আসল ও বিজ্ঞানসম্মত সত্যিটা!

মুখের ভেতর ঘা বা মাউথ আলসার (Mouth Ulcer) এমন একটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও বিরক্তিকর শারীরিক সমস্যা, যা আমাদের দৈনন্দিন খাওয়া-দোয়া, কথা বলা এবং হাসিখুশি জীবনযাত্রাকে মুহূর্তের মধ্যে থমকে দিতে পারে। ছোট-বড় নির্বিশেষে প্রায় প্রতিটি মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার শিকার হয়েছেন। মুখের ভেতর, জিভে, গালের ভেתיরের অংশে কিংবা মাড়িতে লালচে রঙের ছোট ছোট ঘা দেখা দিলে তা থেকে তীব্র জ্বালা ও অসাড়তা সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার জন্য অনেকেই ঘরোয়া নানা টোটকা বা উপায় খোঁজার চেষ্টা করেন। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি প্রচলিত ঘরোয়া উপায় বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, যেখানে বলা হয় যে মুখে ঘা হলে বরফ বা আইস কিউব ব্যবহার করলে নাকি ম্যাজিকের মতো জ্বালা ও ব্যথা কমে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মুখের সংবেদনশীল ক্ষতে বরফের সরাসরি ব্যবহার কি আদстви নিরাপদ, নাকি এটি উপকারের চেয়ে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে?

এই বিষয়ে প্রখ্যাত দন্ত চিকিৎসক এবং ওরাল হেলথ বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত সতর্কতামূলক ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসকদের মতে, মুখে বা মাড়ির নরম টিস্যুতে যখন ঘা বা আলসার তৈরি হয়, তখন সেই স্থানটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। বরফ যখন সরাসরি এই খোলা ক্ষতের সংস্পর্শে আসে, তখন অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে সেখানকার রক্তনালীগুলি হঠাৎ করে সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে সাময়িকভাবে ওই এলাকার স্নায়ুগুলি অবশ হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণের জন্য ব্যথার অনুভূতি কিছুটা কমে যাওয়ার মতো মনে হতে পারে। কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, বরং এটি সাময়িক স্বস্তি মাত্র। বরফের অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রা মুখের ভেতরের সংবেদনশীল মিউকাস মেমব্রেন বা নরম ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে ক্ষত শুকানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটিকে দীর্ঘায়িত বা বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বরফ সরাসরি ক্ষতে ঘষে প্রয়োগ করলে ‘ফ্রস্টবাইট’ বা ঠান্ডাজনিত কলার ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা মুখের ঘা-কে সারানোর পরিবর্তে আরও জটিল ও গভীর করে তুলতে পারে। যদি কেউ মুখের যন্ত্রণাদায়ক ঘা থেকে দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে মুক্তি পেতে চান, তবে বরফ ব্যবহারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি না বেছে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বা সঠিক ও নিরাপদ ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা উচিত। হালকা গরম জলে সামান্য নুন মিশিয়ে দিনে কয়েকবার কুলকুচি করা, ভিটামিন বি এবং আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং ঝাল ও মশলাদার খাবার থেকে কিছুদিনের জন্য দূরে থাকা মুখের ঘা সারাতে দারুণভাবে সাহায্য করে। তাই যেকোনো ঘরোয়া টোটকা অন্ধভাবে অনুসরণ না করে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।