রেজিস্ট্রি করার দিনই গায়ে ঢেলে দেওয়া হলো পেট্রোল! জমি লিখে না দেওয়ায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হলো প্রৌঢ়কে

উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার সদর কোতোয়ালি এলাকার কল্যাণপুর মহাল্লা থেকে একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক, রোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে সম্পত্তি ও প্লট হাতানোর এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের জেরে ৫৬ বছর বয়সি এক প্রৌঢ়কে তাঁরই তৃতীয় স্ত্রী এবং স্ত্রীর বাপের বাড়ির লোকজন মিলে গায়ে আগুন দিয়ে অত্যন্ত নির্মমভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতরভাবে দগ্ধ অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃতের নিজ কন্যা সোনমের পুলিশকে দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও চাঞ্চল্যকর বয়ান থেকে এই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। সোনম জানিয়েছে যে, তাঁর নিজের মায়ের মৃত্যু হয়েছিল ২০২৩ সালে। এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তাঁর বাবা হৃদেশ তিওয়ারি রানু নামের এক মহিলাকে আইনি মতে বিয়ে করেন। রানুর এটি ছিল তৃতীয় বিবাহ; এর আগে তাঁর প্রথম স্বামীর মৃত্যু হয়েছিল এবং দ্বিতীয় স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল।

অভিযোগ উঠেছে যে, বিয়ের পর থেকেই রানু নানা উপায়ে হৃদেশকে মানসিকভাবে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে এবং তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ও টাকা-পয়সা নিজের নামে লিখিয়ে নেওয়ার জন্য লাগাতার প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। স্ত্রীর সেই প্রবল মানসিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে হৃদেশ তাঁর নামে আধা বিস্বা জমি বা প্লট লিখে দিতে রাজি হয়েছিলেন।

প্লট রেজিস্ট্রি করার দিনই রচিত হয় এক ভয়ঙ্কর রক্তক্ষয়ী ষড়যন্ত্র। মেয়ের বয়ান অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার যখন ওই নির্দিষ্ট জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, ঠিক সেই দিনই এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ছক কষা হয়। ঘটনার দিন দুপুরে হৃদেশ যখন বাথরুমে গিয়েছিলেন, সেই মোক্ষম সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত তৃতীয় স্ত্রী রানু এবং তাঁর বাপের বাড়ি থেকে আসা লোকজন মিলে হৃদেশের গায়ে হঠাৎই দ ज्वलनশীল পদার্থ ঢেলে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। স্থানীয় প্রতিবেশীরা যখন হৃদেশকে দাউদাউ করে জ্বলতে দেখেন, তখন অপরাধের প্রমাণ ঢাকতে এবং মানুষের চোখে ধুলো দিতে ওই অভিযুক্ত মহিলা নিজেই নাটক করে আগুন নেভানোর ভান করে। এই ধস্তাধস্তির সময়ে রানুও সামান্য আহত হয় এবং বর্তমানে তাকে পুলিশি নিরাপত্তায় জেলা হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।

ঘটনার তীব্রতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কোতোয়ালি ইনচার্জ চন্দ্রকান্ত জানিয়েছেন যে, মৃত হৃদেশ তিওয়ারির মেয়ে সোনমের সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত তৃতীয় স্ত্রী রানুর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুতর ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিযুক্ত মহিলাকেও পুলিশি কাস্টডিতে রাখা হয়েছে।