ইডি দফতরে হাজিরা মদন মিত্রের স্ত্রীর! পুরনিয়োগ দুর্নীতির জালে জড়িয়ে গেল কামারহাটির বিধায়কের পুরো পরিবার?

কলকাতা পুরসভা এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জোড়া পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যখন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে কলকাতা পুরসভা, ঠিক তখনই অন্যদিকে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র। আইনি এই জোড়া ফলায় শাসক শিবিরের অস্বস্তি যে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শুক্রবারই আলিপুরে কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরো অফিসের বিল্ডিং বিভাগে হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কালীঘাট এলাকার দুটি নির্দিষ্ট বাড়ি নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়েছিল কি না এবং মূল নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত কোনো অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই পুরসভার পক্ষ থেকে তাঁকে তলব করা হয়েছে। এর আগে পুরসভার কর্মীরা সশরীরে ওই বাড়ির সামনে গিয়ে সমস্ত মাপজোক করে এসেছিলেন এবং সেই মর্মে নোটিশও পাঠানো হয়েছিল। বাড়ি সংক্রান্ত সমস্ত বৈধ নথিপত্র নিয়ে তাঁকে আজ হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে এবার মদন মিত্রের পুরো পরিবারকে একে একে জালের মধ্যে টানছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইডি দফতরে হাজিরা দিতে পৌঁছান মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কনিষ্ঠ পুত্র শুভরূপ মিত্রও। এর আগে মদন মিত্রের দুই ছেলেও ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন। জানা গেছে, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদনের পরিবারের মোট চার সদস্যকে আলাদা আলাদা দিনে তলব করা হয়েছিল। গত বুধবার ছোট ছেলে শুভরূপকে টানা প্রায় ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা এবং বৃহস্পতিবার হাজির হন বড় ছেলে স্বরূপ মিত্র। শুধু তাই নয়, আগামী বুধবার অর্থাৎ ২৯ জুলাই এই একই মামলার তদন্তের স্বার্থে কামারহাটির প্রভাবশালী তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র তাঁকেও ব্যক্তিগতভাবে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্তকারী সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, টিটাগড় পুরসভায় নগদ অর্থ কিংবা সোনাদানার বিনিময়ে বেআইনিভাবে অন্তত ১২৫ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়েই তৃণমূল নেতা মদন মিত্রের নাম জোরালোভাবে উঠে আসে। এর আগে গত ১৩ জুন তাঁর একাধিক ঠিকানায় আকস্মিক তল্লাশি চালায় ইডি এবং তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। পুরসভায় চাকরির বিনিময়ে কোনো অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতেই তাঁর স্ত্রী এবং পুত্রদের ব্যাঙ্কের সমস্ত নথিপত্র নিয়ে তলব করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসে পুরনিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্তেই মদন মিত্রের বাড়িতে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। এর মাঝেই গত সপ্তাহে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় এনে মদন মিত্র তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এদিকে, পুরনিয়োগ দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে ইডি এবং সুজিত ও তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুর বিরুদ্ধে আদালতে সুনির্দিষ্ট চার্জশিটও জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার পরিবার এবং আইনি জালে জড়িয়ে পড়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের নজর এখন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।