নিট বিতর্কে চরম মোড়! আজই কি কাটবে অচলাবস্থা? মোদী সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসছে সিজেপি!

দেশজুড়ে নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগে তীব্র উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ও প্রতিবাদের আঁচ এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংঘাতময় পরিস্থিতির মাঝেই এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড় হিসেবে আজ আন্দোলনকারী ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, আজ দুপুর সাড়ে বারোটায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে সরকার পক্ষ। এর ফলে দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কাটবে কি না, সেদিকেই এখন গোটা দেশের নজর আটকে রয়েছে।
নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পর থেকেই ছাত্র বিক্ষোভের তীব্রতা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। দিল্লির পাশাপাশি এই প্রতিবাদের আগুন সফলভাবে ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতা, কেরল, বিহার, রাজস্থান, মুম্বই এবং মধ্যপ্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলিতে। এদিকে আজকের সম্ভাব্য বৈঠক সম্পর্কে ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আলোচনা যদি একান্তই হয় তবে তা যন্তর মন্তরেই অনুষ্ঠিত হবে এবং তার সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবমুখী ফলাফল চাই। সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের ফাঁকা বুলি বা সান্ত্বনার বাণী দিয়ে এই ছাত্র আন্দোলন থামানো যাবে না বলে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিক্ষোভকারী সংগঠনটি। একইসঙ্গে আগামী শুক্রবার কলকাতার প্রাণকেন্দ্র কলেজস্ট্রিট থেকে ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, নিট কেলেঙ্কারির রেশ ধরে গত বৃহস্পতিবারও সংসদের অন্দরে ও বাইরে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বিরোধী সাংসদরা। এই গুরুতর পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্রুতগতির ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করে সমস্ত দোষীদের কঠোরতম শাস্তির আওতায় আনার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও আন্দোলনরত পড়ুয়া ও পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে নিজেদের অবস্থানে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছেন। তাঁদের সাফ কথা, প্রতি মাসে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার এই নৈরাজ্য কোনোভাবেই চলতে পারে না এবং লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অপচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। দেশের তরুণ সমাজের এই ন্যায্য দাবির পাশে দাঁড়িয়ে টিএমসি ও কংগ্রেস সহ একাধিক রাজনৈতিক দল কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে।
দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবদের ওপর পুলিশের সম্প্রতি চালানো লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই পুলিশি বর্বরতার প্রতিবাদে এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানাতে বিরোধী নেতারা বৃহস্পতিবার সরব হন। ডেমোক্রেটিক ফোরামের সূত্র অনুযায়ী, নিট পরীক্ষার ফলস্বরূপ আত্মঘাতী হওয়া ১৪ জন পরীক্ষার্থীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং আহত আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে একটি উচ্চপর্যায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিরোধী নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে গান্ধী স্মৃতিভবনের অভিমুখে যাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তীব্র খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি পুলিশ এই বিক্ষোভে নেতৃত্বদানকারী রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতাকে আটক করে। সব মিলিয়ে রাজধানী দিল্লি তথা গোটা দেশের রাজনৈতিক পারদ এই মুহূর্তে চরম সীমায় পৌঁছেছে।