‘মানুষকে আর সহজে বোকা বানানো যায় না!’ নিট আন্দোলনের মাঝে কংগ্রেসকে ধুয়ে দিলেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী

নিট (NEET) সহ সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল রাজধানী। দিল্লির যন্তর-মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শয়ে শয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও যুবসমাজ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক ও তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। এর মাঝেই কংগ্রেসের প্রতিবাদী কর্মসূচি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন গীতাঞ্জলি আংমো। সোজাসুজি রাজনৈতিক দলগুলিকে নিশানা করে তিনি দাবি করলেন, সাধারণ মানুষকে এখন আর সহজে বোকা বানানো যায় না।

ঠিক কী বলেছেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী?

সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ডাকে ‘পার্লামেন্ট চলো’ অভিযানে গিয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই ঘটনার প্রতিবাদে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও।

এই রাজনৈতিক বিক্ষোভ প্রসঙ্গে সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলে গীতাঞ্জলি আংমো বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পরিবর্তে সরাসরি যন্তর-মন্তরে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে প্রতিবাদে সামিল হওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে, আন্তরিক প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক চালের পার্থক্য এখন দেশের সাধারণ মানুষ ও যুব সমাজ খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারে।

তিনি আরও আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে আয়োজিত প্রতিবাদে আন্তরিকতার অভাব স্পষ্ট ছিল। বর্তমানের মানুষকে আর বোকা বানানো যায় না। যাঁরা আন্তরিক নন, দেশের যুবসমাজ তাঁদের এক লহমায় ছুঁড়ে ফেলে দেবে।” পাশাপাশি, সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘ অনশন এবং তাঁর ভাবমূর্তিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

যন্তর-মন্তরে আন্দোলন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি

উল্লেখ্য, গত ২৬ দিন ধরে অনশনে বসেছেন সোনম ওয়াংচুক। গত সপ্তাহে যন্তর-মন্তর চত্বর থেকে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টও শেয়ার করেছেন গীতাঞ্জলি আংমো। সেখানে তিনি সাফ জানিয়েছেন, যন্তর-মন্তরের এই ছাত্র আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল। কোনও প্রমাণ ছাড়াই এই আন্দোলনকে হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ছাত্র আন্দোলনের জেরে বর্তমানে দিল্লির যন্তর-মন্তর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি মেট্রো জানিয়েছে, রাজীব চক, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সুপ্রিম কোর্ট সহ মোট ১৬টি মেট্রো স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজপথে ছাত্র বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক দলগুলির পালটা প্রতিবাদের জেরে রাজধানীর পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উত্তপ্ত।