নারী নির্যাতনে জিরো টলারেন্স! পুলিশকে সোজা ফ্রি-হ্যান্ড দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, বড় নির্দেশ বিধানসভায়

মহিলা ও কন্যাদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না, তা আরও একবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং নারী নির্যাতন দমন ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন তিনি। মহিলাদের ওপর ঘটে যাওয়া যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ ‘ফ্রি-হ্যান্ড’ বা স্বাধীনভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, যদি কোনো মহিলা বা কন্যার ওপর বিন্দুমাত্র কোনো অন্যায় বা নির্যাতন ঘটে, তবে পুলিশ যেন বিন্দুমাত্র কালক্ষেপ না করে এবং কারও কোনো নির্দেশের জন্য অপেক্ষা না করে কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অপরাধ দমনে পুলিশ যা যথাযথ মনে করবে তাই করবে এবং তাদের সেই পদক্ষেপের পূর্ণ আইনি ঢাল ও নিরাপত্তা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে দেবেন বলে বিধানসভায় আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিন বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস আমলের বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর নারী নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অত্যন্ত চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান। অতীত দিনের কামদুনি, বারাসাত, কাকদ্বীপ, হাঁসখালি, ময়নাগুড়ির মতো মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বর্তমান শাসক শিবিরের পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে আর জি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিগত প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও উদাসীনতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নারীদের নিরাপত্তা চরম সংকটের মুখে পড়েছিল এবং ঘটনার প্রকৃত বিচার করার পরিবর্তে নানা টালবাহানা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সমস্ত কলঙ্কিত অধ্যায় থেকে বেরিয়ে এসে রাজ্যের মা-বোনদের সুরক্ষায় আপসহীন মনোভাব নিয়ে কাজ করছে এবং অপরাধীদের কঠোর হাতে দমন করতে বদ্ধপরিকর।
নারী সুরক্ষার পাশাপাশি রাজ্যের প্রশাসনিক দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের প্রসঙ্গও জোরালোভাবে উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বিধানসভায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে জানান যে, আগামী ২৫ তারিখে রাজ্যের ক্যাগের (CAG) বহু প্রতীক্ষিত রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা হবে। পরবর্তী অধিবেশনে সেই ক্যাগের রিপোর্ট নিয়ে বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হবে এবং তাতে যে সমস্ত দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও সুপারিশ উঠে আসবে, তার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ক্যাগের রিপোর্টে রাজ্যের বিগত বা বর্তমান সময়ে যেখানেই দুর্নীতির প্রামাণ্য তথ্য বা নথি ধরা পড়বে, সেখান থেকে সরাসরি রাজ্যপালের কাছে এফআইআর (FIR) দায়ের করার কঠোর সুপারিশ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি সে যতই প্রভাবশালী মন্ত্রী, নেতা বা হোন না কেন, কাউকেই বিন্দুমাত্র রেওয়াত করা হবে না।
এদিকে একদিকে যখন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড় প্রমাণ অভিযোগ তুলছেন এবং একের পর এক চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করছেন, ঠিক সেই একই দিনে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইডি (ED) দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন হেভিওয়েট নেতা মদন মিত্রের ছোট ছেলে। রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে পুলিশের অবাধ ক্ষমতা প্রদান এবং অন্যদিকে ক্যাগের রিপোর্টের ভিত্তিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের হুঁশিয়ারি—এই দুইয়ের জেরে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যে আরও বহুলাংশে চড়তে চলেছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অপরাধ দমন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকারের এই জিরো টলারেন্স নীতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত এই সংঘাতের জল কতদূরড়ায়, এখন সেই দিকেই তীব্র নজর রয়েছে সমগ্র রাজ্যবাসীর।