ভোটের প্রতিশ্রুতি পূরণ! অক্টোবর থেকে একলাফে কত বাড়ছে সরকারি কর্মীদের ডিএ?

নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া কথা রাখতে এবার রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ বা মহার্ঘ্য ভাতা এবং সপ্তম বেতন কমিশন গঠন নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান সরকার। দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতার ফারাক মেটাতে এবং রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের কেন্দ্রীয় হারের সমকক্ষ করে তুলতে সরকারের পক্ষ থেকে একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে লক্ষ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মচারীর মুখে চওড়া হাসি ফুটতে চলেছে।

সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ্য ভাতা সংক্রান্ত এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের প্রাপ্ত ডিএ-র মধ্যে যে দীর্ঘদিনের বিরাট ব্যবধান বা ফারাক রয়েছে, তা আগামী দিনে ধাপে ধাপে অনেকটাই কমিয়ে আনা হবে। শুধু তাই নয়, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম পে কমিশন বা সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ করা হবে বলে জোরালো ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অতীতে ২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বকেয়া থাকা মহার্ঘ্য ভাতা মেটানোর কাজ শুরু হয়েছিল এবং বর্তমান প্রশাসনের আমলে সেই বকেয়ার একটা বড় অংশ ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার খুব শীঘ্রই ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাকি থাকা বকেয়া ডিএ-র বকেয়া অর্থও সরকারি কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের কর্মীরা যাতে উৎসবের আনন্দ আরও বেশি করে উপভোগ করতে পারেন, সেই কথা মাথায় রেখে বিশেষ আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসেই সমস্ত সরকারি কর্মীকে পুজোর অগ্রিম বেতন প্রদান করা হবে। আর সেই বিশেষ উৎসবের মাসেই রাজ্য বাজেটে আগে থেকেই ঘোষণা করা ২০ শতাংশ বাড়তি মহার্ঘ্য ভাতা যুক্ত হয়ে কর্মচারীদের মূল বেতনের অঙ্ক একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে। অর্থাৎ চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই বর্ধিত ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা হাতে পেয়ে সরকারি কর্মীরা দ্বিগুণ উৎসাহে উৎসব উদযাপন করতে পারবেন। বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ বছর ধরে মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার কালো মেঘ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকারের এই একের পর এক জনমোহিনী পদক্ষেপে সেই হতাশা কেটে গিয়ে এক নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন কর্মীরা।

বিশেষত, বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাজ্য বাজেট পেশ হওয়ার পরেই অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যখন একলাফে ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছিলেন, তখনই কর্মচারীরা বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁদের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এবং আন্দোলন অবশেষে ফলপ্রসূ হতে চলেছে। তবে শুধু বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিয়েই সরকার থেমে থাকছে না; একই সঙ্গে রাজ্যে সর্বাধুনিক সপ্তম বেতন কমিশন চালুর সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেও জোরকদমে কাজ চলছে। নতুন বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের প্রাথমিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বেতন কমিশনের তরফ থেকে দ্রুত ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ সম্পূর্ণভাবে চূড়ান্ত করা হলেই এর পরবর্তী ধাপের সমস্ত কার্যনির্বাহী প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে।

শুভেন্দু অধিকারীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও রূপরেখা অনুযায়ী, বর্তমান চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালুর সমস্ত চেষ্টা চলছে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক নির্বিঘ্নে এগোয়, তবে আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই এই নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশগুলি সরাসরি কার্যকর করা সম্ভব হবে। আর যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তবে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বহু দশকের বঞ্চনা ঘুচে গিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের লালিত সমস্ত দাবি এক নিমেষে পূর্ণতা পাবে। বর্তমানে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা ৩০ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা পেলেও, আগামী দিনে একাধিক পরিকল্পিত ধাপে কেন্দ্রের সাথে এই ব্যবধান সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।