সংসদে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন নিয়ে চরম দড়িটানাটানি! স্পিকারের কাছে বড় দরবার রাহুল গান্ধীর!

সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন মহিলা সাংসদকে কটূক্তি করা এবং অন্যান্য মহিলা সাংসদদের সঙ্গে অসদচরণের অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগে লোকসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই স্থগিতাদেশ জারির পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আর এবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর থেকে এই সাসপেনশন অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জোরালো দাবি নিয়ে লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে সরাসরি দেখা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সহ ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় বিরোধী দলের সাংসদরা। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের নেতৃত্বেই এই প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শাসক দলের একাধিক হেভিওয়েট সাংসদ।

ঘটনার সূত্রপাত গত কাল থেকেই, যখন বরখাস্ত হওয়ার ঠিক পরেই ক্ষুব্ধ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে এই ধরনের সাসপেনশন দিয়ে তাঁকে সংসদ চত্বরে আটকানো বা থামানো যাবে না। এমনকি আজও সংসদ ভবন চত্বরে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আগ্রাসী মেজাজে দেশজুড়ে বহুল আলোচিত নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং অন্যান্য জনস্বার্থের ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায় তাঁকে। আর এবার তাঁর এই দীর্ঘ একক লড়াইয়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বিরোধী শিবিরের তাবড় তাবড় নেতারা। বিরোধী দলগুলোর এই যৌথ উদ্যোগ প্রমাণ করে দিয়েছে যে বর্তমান শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্যের সুর আরও বেশি জোরালো হচ্ছে।

এদিকে এই গোটা রাজনৈতিক তরজায় আজ ফের ধৃত ও বরখাস্ত সাংসদ কল্যাণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দলের বিতর্কিত ও লড়াকু সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে মহুয়া জোরালো দাবি তুলেছেন যে, যে একপেশে ও ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংসদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি ও অসাংবিধানিক। কল্যাণের বিরুদ্ধে উঠা মহিলা বিরোধিতার গুরুতর অভিযোগ প্রসঙ্গে মহুয়া অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তিনি আদপে মহিলা বিরোধী কি না, সেই বিতর্ক সম্পূর্ণ আলাদা এবং অন্য একটি বিষয়। কিন্তু তাই বলে সংসদীয় নিয়মনীতি জলাঞ্জলি দিয়ে তাঁকে এভাবে অন্যায়ভাবে সাসপেন্ড করে মুখ বন্ধ করে দেওয়া যায় না।”

অন্যদিকে, নিজের ওপর আসা সমস্ত ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মহিলা বিরোধিতার তকমা ঝেড়ে ফেলতে ফেলে এবার দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে পালটা আক্রমণ শানিয়েছেন খোদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। বর্ষীয়ান এই সাংসদ তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করে তৃণমূল নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে মহিলা বিরোধী বলে আক্রমণ করেছেন। কল্যাণের বিস্ফোরক অভিযোগ, “কাকলি সেই নেত্রী যিনি অতীতে পার্কস্ট্রিট গণধর্ষণের দুর্ভাগ্যজনক নির্যাতিতাকেও অত্যন্ত নির্মমভাবে ‘দেহ ব্যবসায়ী’ বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে নিয়ে অত্যন্ত অবমাননাকর মন্তব্য করে বলেছিলেন যে তিনি নাকি কাপড় কাটেন! সুতরাং অন্যকে আক্রমণ করার আগে উনি নিজে কতটা মহিলা বিরোধী, তা বাংলার মানুষ খুব ভালো করেই জানেন।” সব মিলিয়ে কল্যাণের সাসপেনশন ও পালটা রাজনৈতিক পালটা অভিযোগে এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতি ও সংসদের অন্দরমহল তীব্রভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।