ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন চালুর ঐতিহাসিক ঘোষণা! মুম্বাই থেকে আমেদাবাদ মাত্র দুই ঘণ্টায়?

আসন্ন আগামী বছর অত্যন্ত প্রতীক্ষিত এবং দেশের ইতিহাসে প্রথম বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালুর পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁতে চলেছে ভারতীয় রেল। মুম্বাই এবং আমেদাবাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী সম্পূর্ণ ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উচ্চ-গতির রেল করিডোরটি ধাপে ধাপে বা পর্যায়ক্রমে জনসাধারনের জন্য চালু করা হবে, যার মধ্যে বহুচর্চিত প্রথম পর্যায়টি আগামী ২০২৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ দিনে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে এই মেগা প্রকল্পের ট্র্যাক ও পরিকাঠামো তৈরির কাজ অত্যন্ত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে এবং ভারতীয় রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিতভাবে এই সংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেট দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

মুম্বাই ও আমেদাবাদের মধ্যকার এই উচ্চাভিলাষী প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পে বিশ্ববিখ্যাত এবং অত্যাধুনিক জাপানের শিনকানসেন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বাই এবং গুজরাটের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র আমেদাবাদের মতো দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহানগরের মধ্যে দৈনন্দিন যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে এবং অবিশ্বাস্য পরিমাণে হ্রাস পাবে। ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মুম্বাই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন করিডোরটির বিভিন্ন সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল কাজ অত্যন্ত নিখুঁত ও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (NHSRCL) সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এই রেল করিডোর এবং এর চলমান নির্মাণ কাজের একটি আকর্ষণীয় ভিডিও শেয়ার করেছে। প্রকাশিত সেই ভিডিওটিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে কীভাবে উন্নত বিদ্যুতায়ন ব্যবস্থা, আধুনিক ইন্টেলিজেন্ট সেফটি সিস্টেম এবং অত্যাধুনিক দেশিয় প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এই বুলেট ট্রেন করিডোরটি সম্পূর্ণ নতুন রূপ লাভ করছে।

এই বিশ্বমানের বুলেট ট্রেন করিডোরটিকে একটি অত্যন্ত উন্নত ২x২৫ কেভি (2x25kV) ওভারহেড ট্র্যাকশন সিস্টেম দিয়ে সুসজ্জিত করা হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী উচ্চ-গতির রেল পরিকাঠামোয় ব্যবহৃত অন্যতম সেরা রেলওয়ে বিদ্যুতায়ন প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃত। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তিটি ভারতে এই প্রথমবার চালু করা হচ্ছে, যা ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার পর্যন্ত অবিশ্বাস্য গতিতে চলমান বুলেট ট্রেনের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বেশিরভাগ প্রচলিত উচ্চ-গতির ট্রেন বা সড়কপথ ব্যবহার করে মুম্বাই এবং আমেদাবাদের মধ্যে যাতায়াত করতে যেখানে প্রায় ছয় ঘণ্টার দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়, সেখানে বুলেট ট্রেনের গতির সুবাদে এই বিশাল দূরত্ব মাত্র দুই ঘণ্টার কম সময়ে অত্যন্ত আরামদায়কভাবে অতিক্রম করা সম্ভব হবে।

মহারাষ্ট্র, গুজরাট এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দাদরা ও নগর হাভেলি—এই তিন নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার ওপর দিয়ে প্রসারিত এই ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মেগা রেল করিডোরটি যাত্রাপথে মোট ১২টি প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামবে। এই স্টেশনগুলির মধ্যে রয়েছে মুম্বাই (বিকেসি), থানে, ভিরার, বোইসার, ভাপি, বিলিমোরা, সুরাট, ভারুচ, ভাদোদরা, আনন্দ, আমেদাবাদ এবং সবরমতি। রেলমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্প শুধু যাতায়াতের সময় কমাবে না, বরং ভারতের পরিবহন ব্যবস্থার ইতিহাসে এক নতুন বিপ্লব ঘটাবে।