‘যুবদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি বরদাস্ত নয়!’ প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপের হুংকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের কথা!

সংসদ চলো অভিযানের ঠিক তিন দিন পর অবশেষে দেশের ছাত্র আন্দোলন ও নজিরবিহীন প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে দেশের তরুণ প্রজন্মের কল্যাণ ও তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিচ্ছু হতে পারে না। এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বড়সড় আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, প্রশ্নফাঁসের মতো দুর্নীতিমূলক ঘটনার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, তাদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। এই বিষয়ে সমস্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সমস্ত কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও তিনি দিয়েছেন। পাশাপাশি, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে ভবিষ্যতে আরও একাধিক সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার তীব্র সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি মোদীকেই এই গোটা পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন। নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন যে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট—প্রথমত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে, দ্বিতীয়ত, দেশের ছাত্রসমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তৃতীয়ত, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর যারা বর্বরোচিত আক্রমণ চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। উল্লেখ্য, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে দেশজুড়ে চলা এই মেগা ছাত্র আন্দোলন নিয়ে এই প্রথমবার দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হলো।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেও দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের আগুন এতটুকুও মন্থর হয়নি। উলটে প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার মানুষের জনস্রোত জমায়েত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সেখানে দফায় দফায় বেশ কিছু বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও উত্তেজনার খবরও প্রকাশ্যে আসছে। সিজেপি সংগঠনের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে তাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে বেআইনিভাবে ছত্রভঙ্গ করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে বহিরাগত লোক এনে জড়ো করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক হয়ে ওঠে যে গত মঙ্গলবার কনট প্লেস সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার মতো হিংসাত্মক ঘটনাও ঘটেছে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও জনতাকে পুরোপুরি ছত্রভঙ্গ করতে বুধবার পুলিশকে বাধ্য হয়ে ব্যাপক লাঠিচার্জ করতে হয়।