সংসদ উত্তাল! প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধীদের হাঙ্গামা, অধিবেশন মুলতবি

প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চরম বিশৃঙ্খলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে দানা বাঁধা তীব্র অসন্তোষ ও ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে সংসদ ভবনের অন্দরে। অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিরোধী দলগুলির তীব্র প্রতিবাদের জেরে লোকসভা ও রাজ্যসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত ও বিঘ্নিত হয়েছে। বিরোধী শিবিরের সাংসদরা এদিন কার্যক্রম শুরু হতেই অবিলম্বে ওয়েলে প্রবেশ করেন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জোরালো দাবিতে তীব্র স্লোগান দিতে শুরু করেন। এর ফলে সংসদের উভয় কক্ষেই চরম হট্টগোল ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সংসদীয় কক্ষের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা বারবার বিরোধী সাংসদদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান এবং আসন গ্রহণের আহ্বান রাখেন। কিন্তু বিরোধীরা তাঁদের দাবিতে অনড় থেকে লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে যান। স্পিকারের কোনো অনুরোধই শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। বিরোধীদের এই অনমনীয় মনোভাব এবং তুমুল শোরগোলের জেরে অধিবেশনের কার্যক্রম একচুলও এগোতে পারেনি। বাধ্য হয়ে স্পিকার লোকসভার কার্যক্রম দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। একই রকম উত্তপ্ত ও অচল পরিস্থিতি বিরাজ করে রাজ্যসভাতেও, যেখানে বিরোধী দলগুলি সরকারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট জবাবদিহির দাবি তোলে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দেশজুড়ে চলমান নিট ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ড বিরোধী দলগুলির হাতে বর্তমান সরকারকে কোণঠাসা করার একটি অন্যতম বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হলেও, বিরোধীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে যতদিন না পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করছেন এবং এই দুর্নীতির সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করছেন, ততদিন সংসদে তাদের এই জিরো-টলারেন্স আন্দোলন এবং প্রতিবাদ থামবে না। সবমিলিয়ে, বর্ষাকালীন অধিবেশনের সূচনার দিনেই প্রশ্নফাঁস ইস্যু যেভাবে সংসদীয় রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে, তাতে আগামী দিনে সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের আক্রমণ আরও তীব্রতর হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।