অভিষেকের স্বস্তিতে বড় ধাক্কা! ৩০ জুলাই পর্যন্ত ঝুলে রইল ভাগ্য, হাইকোর্টে মিলল না কোনও অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ে চাপ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন করে এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনওরকম অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ প্রদান করা হয়নি। আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত তাঁর এই মামলার শুনানি ঝুলে রইল। এদিন আদালতের অন্দরে এই মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত তীব্র আইনি তর্জা ও সওয়াল-জবাব লক্ষ্য করা যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন দেশের প্রবীণ তথা বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল। আদালতের নজর কাড়তে তিনি সওয়ালের সময় দৃষ্টান্ত টেনে জানান যে, অতীতে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা এবং বর্তমানের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে মোট ১৭টি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে বিশেষ রক্ষাকবচ প্রদান করা হয়েছিল। সেই আইনি পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যও অনুরূপ সুরক্ষার জোরালো দাবি জানান তাঁর আইনজীবী।

তবে কপিল সিব্বলের এই দীর্ঘ ও জোরালো সওয়ালের পরেও কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে সমস্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার মধ্যে ৮টি এফআইআরের ওপর আজ কোনও অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা বা রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে বলেন যে, এই মামলাগুলি বিচার্য তালিকায় দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন রয়েছে এবং রাজ্যের বক্তব্য না শুনে কোনোভাবেই একতরফাভাবে রক্ষাকবচ দেওয়া যেতে পারে না। আদালতের পক্ষ থেকে মূল প্রশ্ন তুলে বলা হয় যে, কীভাবে একটিমাত্র মামলার মাধ্যমে একসঙ্গে ৮টি আলাদা আলাদা এফআইআরকে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব? কারণ প্রতিটি মামলার অভিযোগ এবং প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, আদালত এদিন সাফ জানিয়েছে এই মামলায় আপাতত অভিষেকের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ করা হবে না। যদি পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করে, তবে তা অবিলম্বে আদালতের নজরে আনার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীদের পরামর্শ দিয়েছেন বিচারপতির বেঞ্চ।

এদিকে আইনি লড়াইয়ের এই টানাপোড়েনের মাঝেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআরের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, সরাসরি এফআইআরের সংখ্যা ৮ থেকে বেড়ে সোজা ১১-য় গিয়ে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি পরোক্ষভাবেও একাধিক এফআইআরে অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার। যার মধ্যে শালবনি জমি প্লট দুর্নীতি মামলা এবং ডেবরা চাকরি দুর্নীতি মামলার মতো একাধিক বিতর্কিত প্রসঙ্গ এখনও হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট বিবেচনায় আসেনি। সব মিলিয়ে আইনি জট এবং আদালতের এই কড়া পর্যবেক্ষণ অভিষেকের রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইকে আগামী দিনে আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।