ব্যাঙ্কের ভল্ট থেকে ১ কোটির সোনা গায়েব! দু’বছর পর এফআইআর হতেই ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য!

ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর শহর থেকে এক চাঞ্চল্যকর ও অবিশ্বাস্য আর্থিক কেলেঙ্কারির খবর সামনে এসেছে। শহরের মানগোর আজাদনগর থানা এলাকার ক্যানাড়া ব্যাঙ্কের কবির মেমোরিয়াল শাখা থেকে গোল্ড লোনের জন্য সাধারণ মানুষের সাধারণের বন্ধক রাখা প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের সোনা রহস্যজনকভাবে একেবারে উধাও হয়ে গিয়েছে। সবচেয়ে বড় এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিপুল পরিমাণ সোনার হদিশ না পাওয়ার ঘটনাটি আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১২ জুন থেকে ১৮ জুনের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ ঘটনার সুদীর্ঘ দুই বছর পর চলতি বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২১ জুলাই আজাদনগর থানায় ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে, যা নিয়ে গোটা রাজ্য জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোরগোল শুরু হয়েছে।

ক্যানাড়া ব্যাঙ্কের রিজিওনাল ম্যানেজার মঙ্গেশ রামানাথনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্কের বেশ কয়েকজন তৎকালীন ও প্রাক্তন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অভিযুক্তদের এই তালিকায় নাম রয়েছে তৎকালীন সিনিয়র ম্যানেজার তথা প্রথম লকার ইনচার্জ, গোল্ড লোন অফিসার, দ্বিতীয় চাবির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, এক শাখা প্রধান এবং দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে অভিযুক্ত এই আধিকারিকদের বর্তমান সময়ে কেউই আর ওই নির্দিষ্ট শাখায় কর্মরত নেই, তাঁদের অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। ব্যাঙ্কের নিয়মিত অভ্যন্তরীণ অডিটের সময় যখন ভল্টে রাখা গচ্ছিত সোনার সঙ্গে মূল নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়ে দেখা হচ্ছিল, ঠিক তখনই একাধিক সোনার প্যাকেট নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নজরে আসে।

অত্যন্ত সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য বলে বিবেচিত ব্যাঙ্কের এই ভল্টে প্রবেশের অনুমতি মূলত শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন বিশ্বস্ত আধিকারিকেরই থাকে। পুলিশি এফআইআর অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এর নেপথ্যে সম্পূর্ণভাবে একটি গভীর অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ রয়েছে বলেই জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে। কোন গোপন চাবি ব্যবহার করে এবং কোন নির্দিষ্ট সময়ে ভল্ট খোলা হয়েছিল, ব্যাঙ্কের ভল্টে কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত কারচুপি করা হয়েছিল কি না—এই সমস্ত দিকগুলি খতিয়ে দেখতে পুলিশ তৎপর হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যাঙ্কের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, এন্ট্রি রেজিস্টার এবং লকার অ্যাক্সেস সংক্রান্ত দীর্ঘ নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক অত্যন্ত গুরুতর ও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন প্রশ্ন ইতিমধ্যেই জনগণের মনে দানা বেঁধেছে। মূল প্রশ্নটি হলো, ২০২৪ সালের জুন মাসের সংঘটিত এই ঘটনার ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের করতে পুলিশের কাছে পৌঁছাতে দীর্ঘ দুই বছর সময় ব্যয় হলো কেন? তাছাড়া নিয়মিত অডিট হওয়া সত্ত্বেও এতদিন ধরে কীভাবে ব্যাঙ্কের এই সোনার ভান্ডার উধাও হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ নজরের বাইরে থেকে গেল? এটি কি নিছকই কোনো দায়িত্বজ্ঞানহীন গাফিলতি, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো বিরাট সুপরিকল্পিত জালিয়াতি চক্র? স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আজাদনগর এলাকায় ব্যাঙ্কের ভল্ট থেকে এইভাবে সোনা উধাও হয়ে যাওয়ার এটিই প্রথম কোনো ঘটনা নয়। এর আগে ঠিক একই এলাকার ব্যাঙ্ক অফ বরোদা-র অপর একটি শাখা থেকে প্রায় ২৭২ গ্রাম সোনা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। পরপর এমন ভয়াবহ ঘটনায় সাধারণ মানুষের কষ্টের জমানো সোনার নিরাপত্তা ও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা নিয়ে আজ এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।