দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্র বিক্ষোভে লাঠিচার্জ! গর্জে উঠলেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক অঞ্জন দত্ত!

দিল্লির যন্তরমন্তরের বুকে চলা ছাত্র আন্দোলন যখন সারা দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, ঠিক সেই সময় বাংলার শিল্পী সমাজও এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র এবং অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের পর এবার দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের ওপর চলা পুলিশি লাঠিচার্জ ও দমনপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন বিশিষ্ট জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক অঞ্জন দত্ত। তাঁর এই সাহসী ও স্পষ্ট মন্তব্য বর্তমানে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে এক নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ৭৩তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চে সেরা ছবি বিভাগে তাঁর পরিচালিত ‘চালচিত্র এখন’ সিনেমাটির জন্য এই prestigious সম্মান অর্জন করেছেন অঞ্জন দত্ত। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের এই আনন্দের মুহূর্তেও দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসা পুলিশি নির্যাতন ও ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপ তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত বুধবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন এই প্রবীণ পরিচালক। সেই ভিডিও বার্তায় তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, “দিল্লির যন্তরমন্তরে যা ঘটছে এবং শিক্ষার্থীরা যে নির্দিষ্ট দাবির পক্ষে দাঁড়িয়ে লড়াই করছে, তা সম্পূর্ণভাবে অত্যন্ত যৌক্তিক। আমি আদতে একজন গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষ।”

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে অঞ্জন দত্ত ভিডিওতে আরও বলেন, “আমি আমার সারা জীবনে কখনোই কোনো ধরনের দলীয় রাজনীতি বা কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর আস্থা রাখিনি। মূলত দলীয় রাজনীতিতে আমার বিন্দুমাত্র বিশ্বাস ছিল না। আমি জীবনের কোনো পর্যায়েই কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হইনি, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হইনি বা কোনো রাজনৈতিক মিছিলেও অংশ নিইনি। আমার ছাত্রজীবন থেকেই আমি এই সমস্ত দলীয় বৃত্তের বাইরে দূরে থেকেছি। আমার বর্তমান বয়স এখন ৭৩ বছর। দীর্ঘ এই জীবনে আমি অনেক কিছুই দেখেছি, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডায় কখনোই বিশ্বাস স্থাপন করিনি। আমি মূলত অস্তিত্ববাদে বিশ্বাসী; আমি সর্বদাই ব্যক্তির স্বাধীন শক্তিতে বিশ্বাস রাখি, কোনো অন্ধ সমষ্টির শক্তিতে নয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আজ আমাকে স্পষ্টভাষায় স্বীকার করতেই হচ্ছে যে, দিল্লির যন্তরমন্তরে যা ঘটছে এবং শিক্ষার্থীরা যে ন্যায়ের দাবিতে লড়ছে, তা ১০০ শতাংশ যুক্তিযুক্ত।”

দেশের তরুণ প্রজন্ম ও ছাত্রসমাজকে কুর্নিশ জানিয়ে পরিচালক বলেন, “আমি সর্বদাই একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর আস্থা রাখি। আমি দেশের সংবিধানের প্রতি আস্থাশীল ছিলাম এবং আজও আছি। কিন্তু যখন আমি দেখি যে আমার দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী—হয়তো লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী এমন একটি অত্যন্ত পবিত্র বিষয়ের জন্য ন্যায়বিচার চাইছে, আর তা হলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, তখন চুপ থাকা যায় না। যখন তারা শিক্ষার ক্ষেত্রে ঘটে চলা ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং তা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও অহিংস উপায়ে করছে, তখন আমাকে তাদের সামনে মাথা নত করতেই হয়। তাদের এই সাহসিকতা দেখে একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আজ বুক ফুলিয়ে গর্ববোধ করার সুযোগ পেয়েছি আমি। এমন একটি দেশে বসবাস করতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত, যেখানে দেশের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার ক্ষেত্রে ঘটে চলা যেকোনো অবিচারের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও অহিংস উপায়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রাখে। আমি তাদের সবাইকে সশ্রদ্ধ কুর্নিশ জানাই এবং অসংখ্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি।”