নিট কাণ্ডে বিরাট পদক্ষেপ মোদীর! প্রশ্নফাঁস রুখতে সরাসরি ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা!

দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপের মাঝেই দেশের যুবসমাজকে অত্যন্ত জোরালো ও আশ্বস্ত করার মতো বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলা নিট প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগ নিয়ে শুরু থেকেই কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এর আগেও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত কোনো দোষীকেই বিন্দুুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে নিজের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করে তিনি আরও একবার সেই আপসহীন প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, দেশের যুবসমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং তাদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে এই মুহূর্তে সরকারের কাছে অন্য কোনো কিছুকেই স্থান দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে এই স্পর্শকাতর প্রশ্নফাঁসের ঘটনার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে জানিয়েছেন।

কী লেখেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?
বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সুনির্দিষ্ট বার্তায় উল্লেখ করেছেন, “আমাদের দেশের যুব সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ এবং তাদের সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না। প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যেসব প্রভাবশালী বা কুচক্রী ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছে, তাদের অত্যন্ত দ্রুত ও কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আমরা বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এই সংবেদনশীল বিষয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ পদক্ষেপ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে আমাদের এই নিরলস ও ধারাবাহিক উদ্যোগেরই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবারই এনডিএ-র উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই অনৈতিক চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তার পক্ষে তিনি জোরালো সওয়াল করেছিলেন। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বার্তা দিয়েছিলেন যে শুধুমাত্র পরীক্ষা পরিচালনা বা প্রশ্নফাঁস রোধ করা একা সরকারের একাই দায়িত্ব নয়, এটি সমগ্র দেশের যৌথ দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে একটি সম্পূর্ণ ত্রুটিহীন ও নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে আগামী দিনে দেশের কোনো পরীক্ষার্থীকেই এই ধরনের হেনস্তার শিকার হতে না হয়। প্রধানমন্ত্রীর সাফ বার্তা ছিল, অপরাধীদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না এবং যারা এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে, ছাত্র সমাজের স্বার্থ সুরক্ষায় সেই ধরনের কোনো গাফিলতি বা অসদুপায় সরকার কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না।

অন্যিদিকে, এই দেশজোড়া উত্তেজনার আবহে বুধবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো সংবেদনশীল ও গুরুতর বিষয় নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধী দলগুলির সম্ভাব্য অবস্থান কী হতে পারে এবং সরকারের পরবর্তী কৌশল কী হবে, তা নিয়ে নীতিনির্ধারক মহলে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। সব মিলিয়ে, সরকারের এই দ্রুত ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা এবং নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ আগামী দিনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।