গোল্ডেন গ্লাভ জিতেও ফিফার সেরা একাদশে ব্রাত্য স্পেনের গোলরক্ষক! অনুরাগীদের রায়ে জায়গা পেলেন কেপ ভের্দের ভোজিনহা

বিশ্বকাপের মঞ্চে দলগত সাফল্যই শেষ কথা হলেও, ব্যক্তিগত দক্ষতা বা নৈপুণ্য কখনওই উপেক্ষিত থাকে না। সদ্য শেষ হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলদাতা এবং প্রতিযোগিতার সেরা ফুটবলার হিসেবে ইতিমধ্যেই যথাক্রমে গোল্ডেন বুট এবং গোল্ডেন বল জিতেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে এবং বিশ্বসেরা স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। ফিফার তরফে বুধবার ঘোষিত বিশ্বকাপের সেরা একাদশেও প্রত্যাশিতভাবেই জায়গা করে নিয়েছেন এই দুই তারকা। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে গোল্ডেন গ্লাভ জিতে নেওয়া সত্ত্বেও সেই সেরা একাদশে জায়গা মিলল না স্পেনের বিশ্বস্ত গোলরক্ষক উনাই সিমোনের। উনাই সিমোনের পরিবর্তে বিশ্বকাপের সেরা একাদশের গোলরক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফুটবলপ্রেমীদের পরম পছন্দের তারকা ভোজিনহা। উল্লেখ্য, কেপ ভের্দে রাউন্ড অব ৩২ থেকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অনুরাগীর হৃদয় জয় করে নিয়েছিলেন। সেই ফ্যানদের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েই বিশ্বকাপের সেরা একাদশের শট-স্টপার হিসেবে জায়গা করে নিলেন বছর চল্লিশের এই ফুটবলার। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখা ভালো, ভোজিনহার বিশ্বস্ত দস্তানাতেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কেপ ভের্দের কাছে আটকে গিয়েছিল পরাক্রমশালী স্পেন। পরবর্তীতে টুর্নামেন্টের অন্যান্য ম্যাচেও নিজের দক্ষতার সর্বোচ্চ নিদর্শন রেখে কেপ ভের্দে দুর্গের শেষ প্রহরী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটিমাত্র গোল হজম করে মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন গ্লাভ জেতা সত্ত্বেও সেরা একাদশে জায়গা পাননি উনাই সিমোন। ফ্যানদের ভোটে নির্বাচিত এই সেরা একাদশে সর্বাধিক তিনজন করে ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং রানার্স ফ্রান্স দল থেকে। এছাড়া লিয়োনেল মেসি সহ জোড়া ফুটবলার রয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দল থেকে। পাশাপাশি ভোজিনহাকে বাদ দিলে একজন করে প্রতিনিধি রয়েছে কেপ ভের্দে, ইংল্যান্ড এবং নরওয়ে থেকে। তবে অত্যন্ত অবাক করার বিষয় হলো, বিশ্বকাপের সেরা প্রতিশ্রুতিমান তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার জিতলেও সেরা একাদশে জায়গা হয়নি উদীয়মান স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির। তরুণ কুবার্সির পরিবর্তে সেন্টার-ব্যাক পজিশনে অনুরাগীরা বেছে নিয়েছেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও দায়ত উপামেকানোকে। এই একাদশের দুই সাইড-ব্যাক পজিশনে রয়েছে স্পেনের পেদ্রো পোরো এবং মার্ক কুকুরেয়া। শক্তিশালী মাঝমাঠে রাখা হয়েছে গোল্ডেন বল বিজেতা রদ্রি, মাইকেল ওলিসে এবং তারকা মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামকে। এর মধ্যে ফরাসি মিডফিল্ডার ওলিসে একটি একক বিশ্বকাপে সর্বাধিক সাতটি অ্যাসিস্ট করার নিরিখে ফুটবল সম্রাট পেলের ঐতিহাসিক রেকর্ডও টপকে গিয়েছেন।

বিশ্বকাপের সেরা একাদশের আক্রমণভাগে বা ফরোয়ার্ড পজিশনে রাখা হয়েছে আধুনিক ফুটবলের তিন মহাতারকা লিয়োনেল মেসি, আর্লিং হ্যালান্ড এবং কিলিয়ান এমবাপেকে। এই তিন বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডের বাইরে গিয়ে সেরা একাদশের আপফ্রন্টে অন্য কাউকে একেবারেই মানানসই বলে মনে হয় না। উল্লেখ্য, এই তিন বিধ্বংসী ফরোয়ার্ড একত্রে গোটা বিশ্বকাপে মোট ২৫টি গোল করেছেন। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই গোল্ডেন বুটের সোনার দৌড় ছিল মূলত এই তিনজনের মধ্যেই। কিন্তু শেষ ল্যাপে এসে দুর্দান্ত ফর্মে থেকে বাজিমাত করে যান কিলিয়ান এমবাপে। অবিশ্বাস্যভাবে ১০টি গোল করে টানা দ্বিতীয়বারের জন্য ব্যক্তিগত সোনার বুট জিতে নিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে আটটি ও সাতটি গোল করে এই প্রতিযোগিতায় যথাক্রমে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মেসি ও হ্যালান্ডকে। তবে উল্লেখ্য যে, এই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থেকে সমান সাতটি গোল করেছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যামও।