“১৬,০০০ কনস্টেবল নিয়োগ!”-রাজ্যে মোট ২০ হাজার চাকরির বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পুজোর আগেই রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বিরাট সুখবর। বিধানসভায় পুলিশ বাজেটের জবাবি ভাষণে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন যে, দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্য পুলিশে ১৬ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে। সব মিলিয়ে খুব শীঘ্রই মোট ২০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে ‘খোলাছুট’ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।
পুলিশের খোলনলচে বদলে ফেলার হুঙ্কার
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। এদিনের বিধানসভা থেকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে পুলিশের কোনও প্রকৃত উন্নতি হয়নি, বরং দফতরটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
তাঁর কথায়, “কলকাতা পুলিশে কিছুটা সিস্টেম থাকলেও বাকি সব জিরো। পুলিশ বারাক, রান্নাঘর, ডিএ, পে কমিশন, বদলি নীতি—যেদিকে তাকাবেন শুধুই অন্ধকার।” * বছরের পর বছর স্থায়ী পদে বড় নিয়োগ বন্ধ রেখে যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ ছাড়াই সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা হয়েছিল বলে তোপ দাগেন তিনি। অভিযোগ তোলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক আনুগত্য ও তোলার কাজের জন্য সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যবহার করা হতো।
রাজ্য পুলিশে মোট ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩৪৪টি পদের মধ্যে এতদিন পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৭৩টি পদ ফাঁকা পড়েছিল। সেই কর্মী শূন্যতা দূর করতেই এই ২০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
ঘুষখোর পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি কন্ট্রোল রুম
পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়া বা ঘুষ খাওয়ার অভিযোগ উঠলে এবার থেকে আর বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এই ধরণের অনিয়ম কঠোর হাতে দমন করতে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই কন্ট্রোল রুমের ডেডিকেটেড হেল্পলাইন নম্বরে সাধারণ মানুষ সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নারী নিরাপত্তায় ‘খোলাছুট’ এবং কড়া বার্তা
রাজ্যে নারী নিগ্রহ বা অপরাধমূলক ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে একশো শতাংশ স্বাধীনতা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, “কোনও কন্যা বা মহিলার ওপর অত্যাচার হলে ওপরমহলের কারোর নির্দেশের জন্য এক মুহূর্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই। যা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার তৎক্ষণাৎ নিন, মুখ্যমন্ত্রী আপনাদের ঢাল হয়ে রক্ষা করবেন।” পুজোর আগে এই বিশাল নিয়োগ এবং পুলিশের পরিকাঠামো উন্নয়নের ঘোষণায় একদিকে যেমন চাকরিপ্রার্থীদের মনে আশার আলো জ্বলেছে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কড়া মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে।