সপ্তম বেতন কমিশন গঠন! রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর, জারি বিজ্ঞপ্তি

রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। অর্থ দফতরের জারি করা এই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, নতুন এই কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত IAS কর্মকর্তা অতনু চক্রবর্তী-কে। তাঁর সঙ্গে এই কমিশনে থাকছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও বিশারদ সদস্যরা।

কী কী বিষয় খতিয়ে দেখবে কমিশন?

  • আর্থিক সুবিধা ও ভাতা: সরকারি কর্মীদের মূল বেতন, ভাতাদি, মহার্ঘ ভাতা (DA), বিশেষ ভাতা এবং ট্রাভেলিং অ্যালাউন্স (TA)-সহ সমস্ত আর্থিক বিষয়াদি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করবে কমিশন।

  • পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধা: শুধু কর্মরত কর্মীই নন, পেনশনভোগীদের গ্রাচ্যুইটি, পেনশন এবং অন্যান্য অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রেও সুপারিশ পেশ করবে এই প্যানেল।

  • চাকরির শর্ত ও কর্মপরিবেশ: কর্মীদের পদোন্নতি নীতি, চাকরির বিভিন্ন শর্ত এবং কর্মপরিবেশের সার্বিক উন্নয়নের ওপরও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

কীভাবে তৈরি হবে সুপারিশ?

জানা গেছে, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান বেতন কাঠামো, দেশের অন্যান্য রাজ্যের মডেল এবং আসন্ন অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশগুলোও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে এই কমিশন। প্রয়োজনে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দেওয়ারও ক্ষমতা রাখা হয়েছে কমিশনের হাতে।

সদর দপ্তর ও ডেডলাইন

এই বেতন কমিশনের প্রধান কার্যালয় বা সদর দপ্তর কলকাতাতেই থাকবে। তবে প্রয়োজন সাপেক্ষে রাজ্যের অন্যান্য জেলা এমনকি দিল্লিতেও বৈঠক করতে পারবে কমিশন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ঠিক ছয় মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের হাতে জমা দিতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: দীর্ঘদিনের বকেয়া ও বেতন কাঠামো সংশোধনের দাবিতে মুখিয়ে থাকা লাখ লাখ রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের কাছে এই বিজ্ঞপ্তি বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।